ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, হুমকির মুখে বিদ্যালয়
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি লাউয়াছড়ার আদমপুর ইউনিয়নের কোনাগাঁও এলাকার স্লুইসগেটটি কৃষকদের কাল হয়ে দেখা দিয়েছে। অপরিকল্পিত স্লুুইসগেটে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত, ঝোঁপজঙ্গল, বাঁশ ও ডালপালা জমে ছড়ার বিপণ্ন দশা। পানির স্রোতে ছড়ার বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষি জমিতে পলিবালি জমে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ও হুমকির মুখে রয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার আদমপুর ও আলীনগর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত পাহাড়ি খরস্রোতা লাউয়াছড়া। ২০০৬ সালে মণিপুরী অধ্যুষিত আদমপুর ইউনিয়নের নয়াপত্তন এলাকায় ছড়ায় স্থাপিত একটি স্লুইসগেট কৃষকদের কাল হয়ে দেখা দিয়েছে। প্রায় দশ থেকে পনের ফুট প্রশস্ত ছড়ায় স্লুইসগেটের কারণে পানি নিষ্কাশনে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সংস্কারের অভাবে ঝোঁপজঙ্গল ও বাঁশঝাড়ের কারণে ছড়াটির বিপণ্ন দশা। বৃষ্টিপাতের ফলে পানির প্রবল স্রোতে ছড়ার বাঁধ ভেঙে বিকল্প স্থান দিয়ে তৈরি হয়েছে খাল। বাঁধের ভাঙন দিয়ে পলিবালি জমে কয়েকটি গ্রামের শতাধিক একরেরও বেশি কৃষিজমি ভরাট হয়েছে।
এলাকার প্রাক্তন মেম্বার হাবিব আলী, স্থানীয় কৃষক জুনাব আলী, আনোয়ার হোসেন বাবু, নাসির আলী, রিয়াজ উদ্দীন, বদরুল ইসলাম, মন্তাজ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখানে প্রথম স্লুইসগেট স্থাপনের সময়েও আমরা আপত্তি জানিয়েছি। ছড়ার ভাঙনে ইউনিয়নের কোনাগাঁও, নয়াপত্তন, ছনগাঁও, মাঝেরগাঁও, ঘোড়ামারা, তেঁতইগাঁও, উ. ভানুবিল, হুমেরজান গ্রামের দুই থেকে ৩০০ একর কৃষিজমি পলিবালি জমে চাষাবাদ অনুপযোগী হয়ে উঠছে। এসব এলাকার প্রায় ৩০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
মাঝেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিশ্বজিত্ সিংহ বলেন, এই ছড়ায় সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত স্লুইসগেট স্থাপন করা হয়েছে। এখন ছড়ার বাঁধের ভাঙনে শুধু কৃষিজমিই নয় বিদ্যালয়টিও তলিয়ে যায়।
জেলা কৃষক সমিতির সদস্য আহমদ সিরাজ বলেন, নয়াপত্তন এলাকায় লাউয়াছড়ার ভাঙনে শত শত কিয়ার কৃষিজমি বালুবাহিত হয়ে নষ্ট হওয়া, স্লুইসগেটের অব্যবস্থাপনা ও অকেজো হওয়া—প্রতিবিধান হিসাবে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া ও ফসলি জমি চাষ উপযোগী করাসহ স্লুইসগেটের অকার্যকারিতার তদন্তক্রমে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
কোনগাঁও গ্রামের লাউয়াছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল গফুর কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করে বলেন, পানি নিষ্কাশনে বাধাগ্রস্ত হয়ে ছড়ার বাঁধ ভেঙে আটটি গ্রামের কৃষিজমি ও আলীনগর ইউনিয়নের হলদিয়ার হাওরের কৃষিজমিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সমস্যা নিয়ে সমিতির সভায় রেজ্যুলেশন করে ছড়ার নিম্নাঞ্চলসহ দুই কিলোমিটার খনন প্রস্তার করে উপজেলা এলজিইডি অফিসে দাবি জানানো হয়েছে।
আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, অপরিকল্পিত স্লুইসগেটের কারণে গোটা এলাকার কৃষকরা ভোগান্তির মধ্যে। তবে কৃষকদের এই সমস্যা সমাধানে একটি সুরাহা হওয়া প্রয়োজন। এ ব্যাপারে এলজিইডি কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, স্লুইসগেটটি অনেক আগে কৃষকদের স্বার্থে স্থাপন করা হয়। তবে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়া, ছড়ার বাঁধ ভাঙার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখব।
