দেউলিয়া ব্রিটিশ পর্যটন কোম্পানি টমাস কুক

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:২৫

বিদেশে আটকা পড়লেন দেড় লাখ পর্যটক

শেষ মুহূর্তের আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় বাঁচানো গেল না টমাস কুককে; যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো অবকাশ পর্যটন কোম্পানিটিকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ (সিএএ) বলছে, বিশ্বজুড়ে পর্যটন পরিচালনাকারী এই কোম্পানি ‘তাত্ক্ষণিক সব বিক্রি’ বন্ধ করে দিয়েছে।

এই ঘোষণার ফলে এ মুহূর্তে বিদেশে থাকা দেড় লাখেরও বেশি ব্রিটিশ পর্যটককে দেশে ফেরানোর জন্য নতুন করে ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে হবে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, এটা শান্তিকালীন সময়ে সবচেয়ে বড়ো ব্রিটিশ প্রত্যাবাসন। অর্থাত্ যুদ্ধ পরিস্থিতি ছাড়া এর আগে সরকারকে এত ব্রিটিশ নাগরিককে একসঙ্গে দেশে ফেরানোর আয়োজন করতে হয়নি। টমাস কুকের প্রধান নির্বাহী পিটার ফ্যাংকহসার বলেন, ১৭৮ বছরের পুরনো এই কোম্পানির এরকম পতন ‘গভীর আক্ষেপের বিষয়’। তিনি কোম্পানিকে বাধ্যতামূলকভাবে দেউলিয়া ঘোষণা করার কথা জানিয়ে লাখ লাখ গ্রাহক ও কয়েক হাজার কর্মীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। টমাস কুকের পতনের ফলে যুক্তরাজ্যে নয় হাজারসহ বিশ্বজুড়ে ২২ হাজার মানুষের চাকরি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ব্রিটিশ পরিবহনমন্ত্রী গ্রান্ট শ্যাপস বলেন, কোম্পানিটির পতন ‘কর্মীদের জন্য এবং অবকাশযাপনকারীদের জন্য অত্যন্ত দুঃখের’। এখন প্রত্যাবাসনের ‘বিশাল’ ভারবহনকারী এসব কর্মীদের সঙ্গে ‘আন্তরিক আচরণ’ করতে অবকাশযাপনকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শ্যাপস জানান, গ্রাহকদের বিনা খরচে দেশে ফেরাতে সরকার ও বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ এর মধ্যেই কয়েক ডজন উড়োজাহাজ ভাড়া করেছে। টমাস কুকের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া নাগরিক ফেরাতে জরুরি এ কার্যক্রমের সাংকেতিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ম্যাটারহর্ন’। ১৮৪১ সালে লিসেস্টারশায়ারের কেবিনেট নির্মাতা টমাস কুকের হাত ধরে যাত্রা শুরু করেছিল এ কোম্পানি। তার নামে চালু হওয়া কোম্পানিটি বিশ্বের বিখ্যাত হলিডে ব্র্যান্ডগুলোর অন্যতম। টমাস কুকের আগে পর্যটন কোম্পানির সফল ভাবনা আর আসেনি।

কেন এমন পরিণতি?

ব্যবসায়িক মন্দার মধ্যে চলতি বছরের আগস্টে বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার চীনা সংস্থা ফোসুনের নেতৃত্বে ৯০ কোটি পাউন্ডের একটি পুনরুদ্ধার তহবিল যোগাড়ে সমর্থ হয়েছিল টমাস কুক। কিন্তু কোম্পানিটির ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর তরফ থেকে জরুরি তহবিল হিসেবে আরও ২০ কোটি ডলার বাড়ানোর দাবি তোলায় ওই বিনিয়োগ চুক্তি সংশয়ের মধ্যে পড়ে। টমাস কুকের দেউলিয়া হওয়ার খবরে হতাশা প্রকাশ করে ফোসুন এক বিবৃতিতে বলেছে, চুক্তির পুরো প্রক্রিয়ায় তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকলেও দুর্ভাগ্যক্রমে অন্য বিষয়গুলোও পরিবর্তিত হয়েছে। ‘এই পরিণতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি অত্যন্ত গভীর সমবেদনা জানাই।’

এদিকে টমাস কুক রবিবার সারা দিন বাড়তি তহবিল জোগাড়ের মাধ্যমে চুক্তি টিকিয়ে রাখতে ঋণদাতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু কোনো ফল আসেনি। কোম্পানিটি সরকারের কাছেও আর্থিক সহায়তা চেয়েছিল, যার জন্য শ্রমিক সংগঠনগুলোও সুপারিশ করেছিল। কিন্তু ওইদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোমিনিক র্যাব বলেন, ‘সুকৌশলগত জাতীয় স্বার্থ’ না থাকলে মন্দার ব্যবসা উদ্ধারে সরকার ‘পদ্ধতিগতভাবে পদক্ষেপ’ নেয় না।