সমস্যা নয়, সম্ভাবনার বাংলাদেশ দেখতে চাই

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৩১

মো. ওয়াদুদ রহমান ওয়ালিদ

একটি দেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে গেলে ভৌগোলিক অবস্থান, দক্ষ মানবসম্পদ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন।

 সরকারি বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে, ওপরের সব বিষয়ে ভালো করলেও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সহজেই তা বিলীন হয়ে যেতে পারে। আজকের কর্মের ফলই ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে ভোগ করতে হবে। জাতিসংঘ এসডিজি-২০৩০ প্রণয়ন করেছে ১৭টি লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে যার প্রকৃত উদ্দেশ হলো ইকো-সিস্টেমকে ঠিক রেখে কার্যত অর্থনৈতিক উন্নয়ন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশ ভালোই সাফল্য দেখিয়েছে যা প্রতিবেশী দেশগুলোও দেখাতে পারেনি! এখন প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কি ২০৪০ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া অথবা কাতারের মতো দেশ হতে পারবে? সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে অবশ্যই উক্ত দেশগুলোকে পিছনে ফেলবে।

বাংলাদেশে বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্ড বা কর্মক্ষম জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় ২০৪০ সালের পর এ সুযোগ আর থাকবে না বরং তখন বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকবে (ইউএনডিপি)। অন্য দিকে, জাতিসংঘের ইন্টার গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের (আইপিসিসি) মতে, ‘২০৪০ সালের পর বাংলাদেশের তাপমাত্রা ১ ডিগ্রির অধিক বেড়ে যেতে পারে ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটার বৃদ্ধি, ১৭% ভূমি হারানোসহ ৩০% খাদ্য উত্পাদন ব্যাহত হবে’। ভৌগোলিকভাবে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। মাথাপিছু আয়ের প্রবৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকগুলোতে বাংলাদেশ ভালো করায় জাতিসংঘ ২০১৭ সালে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায় সক্ষমতা এবং ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৪ সাল নাগাদ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে থাকার সম্ভাবনার কথা বলেছে। যদি তাই হয় তবে, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যিক সুবিধা (জিএসপি) হারাতে থাকবে ফলে অর্থনীতির ওপর একটা বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে। বিশ্ব ব্যাংকসহ দাতা সংস্থাগুলো কম সুদে ঋণ প্রদান করবে না, অন্যদিকে শ্রমিকের দাম বৃদ্ধির ফলে দেশীয় বা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের হার কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গতকারণে, ২০২৭ সালের পর ব্যবসা-বাণিজ্যে, রপ্তানি পণ্যের ওপর একটা মোটা অংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে যেটি দেশের অর্থনীতির ওপর হুমকি স্বরূপ।

অন্য দিকে, কর-জিডিপিতে বাংলাদেশের অবস্থান খুবই হতাশাব্যঞ্জক যা প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলোই নয়, বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রের চেয়ে তলানিতে পড়ে আছে বাংলাদেশ। কর ফাঁকি দিয়ে দেশের টাকা বাইরে পাচার আর বাইরে থেকে দক্ষ শ্রমিকের পিছনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় যে-কোনো দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারকে ব্যাহত করে। এদিকে শুধু চীনের কাছেই ঋণের পরিমাণ ৩০ বিলিয়ন ইউএস ডলারের বেশি, দিন দিন এর পরিমাণ বাড়ছে। গবেষকদের মতে, যেটা ‘শুল্ক ফাঁদ’ নামে পরিচিত। চীন অতিরিক্ত ঋণের ফলে অন্য পার্শ্ববর্তী দেশগুলোকে যে অবস্থা করেছে, বাংলাদেশকে সেই একই রকম শুল্ক ফাঁদে আটকানোর চেষ্টা করবে।

বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সু-সম্পর্ক, দেশের সুশাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, শিক্ষার আধুনিকায়ন বা কর্মভিত্তিক শিক্ষা, দেশি-বিদেশিদের পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তরুণদের গড়ে তুলতে পারলেই স্বপ্নের ‘সোনার-বাংলা’ গঠন করা সম্ভব হবে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়