ভাঙ্গায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীকে পেটানোর মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৩৪

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী সমরজিত ঘরামীসহ তিন জন অফিস সহকারীকে পিটিয়ে আহত ও ভাঙচুরের ঘটনায় ভাঙ্গা থানায় দায়ের করা মামলার আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদীকে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। মামলার বাদী জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী সমরজিত ঘরামী জানান, মামলার আসামি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর রাজনৈতিক সচিব ও সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক অপু ও ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাজা রবিবার অফিস চলাকালীন সময়ে অফিস রুমে প্রবেশ করে আমাকে মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করেন। আমি এখানে আমার পরিবার-পরিজন রেখে সরকারের দায়িত্ব পালন করি। তারা বর্তমান সরকারি দলের নেতা তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ও নিজেকে সামাল দিয়ে কতক্ষণ দায়িত্ব পালন করতে পারবো বুঝে উঠতে পারছি না। আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানিয়েছি এবং তাদের পরামর্শে মামলার ভবিষ্যত্ নির্ধারণ হবে বলে আমি মনে করি।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রবিবার সকালে অফিস চলাকালীন সময়ে এসে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর রাজনৈতিক সচিব ও সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক অপু ও ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাজা পাঁচটি আর্সেনিকমুক্ত টিউবয়েল দাবি করেন। সমরজিত ঘরামী আইন বহির্ভূত কোনো কাজ করতে পারব না বলতেই তারা তার ওপর চড়াও হয়ে উঠে। তাদেরকে বোঝাতে চেষ্টা করলে তারা তখন সমরজিত ঘরামীকে মারতে মারতে অফিস কক্ষের ভেতরে তালা দিতে যায়। সে সময় অফিস সহকারী মো. সেলিমুজ্জামান, মো. সাঈদুল ইসলাম ও বলাই চন্দ্র দাস বাধা দিলে তাদেরও মারধর করে। স্থানীয় জনতা ও উপজেলা প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তা সমরজিত ঘরামীকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা হাসপাতালে চিকিত্সা প্রদান করেন। উক্ত ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ হতে সমরজিত ঘরামী বাদী হয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাজা ও এনামুল হক অপুকে আসামি করে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি এনামুল হক অপুকে পুলিশ সে সময় গ্রেফতার করতে পারলেও আকরামুজ্জামান রাজা পালিয়ে যায়। বেশকিছু দিন এক আসামি জেল খাটার পর উভয় আসামি জামিনে এসে সমরজিত ঘরামীকে মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করে।