ইসি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সিইসির কাছে স্ত্রীর নালিশ

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৪২

দুর্নীতি ও  নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ঢাকার অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বশির আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নারী নির্যাতন ও একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নালিশ দিয়েছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী শিমু আক্তার। গত রবিবার বিকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে মো. বশির আহমেদকে বরখাস্ত করার আবেদন করেছেন তার স্ত্রী।

অভিযোগকারী নারায়ণগঞ্জের মিজমিজ এলাকার বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগের নেত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রী দাবিদার উল্লেখ করেছেন, ঢাকার অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বশির আহমেদ আমার স্বামী। তার সঙ্গে ইসলামি শরিয়ার বিধান মতে ও রেজিষ্ট্রি কাবিননামা মূলে গত ২০১৫ সালের ৪  সেপ্টেম্বর বিয়ে হয়। তার আগে আমি ডিভোর্সি নারী হিসেবে আমার সন্তানদের নিয়ে শান্তিতে ছিলাম। ২০১৫ সালের শুরুতে আমার সঙ্গে পরিচয়ের সময় তার স্ত্রী সন্তানের কথা গোপন রেখে নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে বিয়ে করেন।

অভিযোগে বলা হয়, আমি বিয়ের পর জানতে পারি সে বিবাহিত। ইসরাত জাহান ইভা প্রথম স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে অমানবিকভাবে মারধর করে। পরে তার মোবাইল সেট থেকে দেখতে পাই তার অনেক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। সরকারি চাকরির প্রলোভন দিয়ে বহু নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে আমাকে প্রচণ্ড মারধর করে এবং ডির্ভোসের হুমকি দেয়। আমার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছে। পরবর্তীতে গত ২ আগস্ট ২০১৮ সালে আমার বাড়ি বিক্রি করে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করলে বাধ্য হয়ে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক বিরোধ আইনে মো. বশির আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করি। গত বছরের ১৮ অক্টোবর মো. বশির আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু হলে একই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে পরবর্তীতে আদালতে আপস মীমাংসার হলফনামা দিয়ে জামিনপ্রাপ্ত হয়ে আমার সঙ্গে আপস না করে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেন। এ মামলা গত ২১ আগস্ট বিবাদীর অপরাধ প্রাথমিক ভাবে সত্য প্রতীয়মান হওয়ায় আদালত তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছে।

ইসিতে দেওয়া অভিযোগে আরো বলা হয়, ঢাকার অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বশির আহমেদ একজন সাধারণ নিম্নবিত্তের পরিবারের সন্তান হয়েও পেশাগত বিভিন্ন প্রকার দুর্নীতি ও অনিয়ম করে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এ বিষয়ে মো. বশির আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, ঐ মহিলা আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। চাঁদা না পেয়ে কমিশনে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।