বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন পঞ্চম দিনে গড়াল

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৫১

মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করেও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার পঞ্চম দিনে পড়েছে উপাচার্য খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের আন্দোলন। গত রবিবার বিকাল থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত টানা বৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ১৬ ঘণ্টা বৃষ্টিতে ভিজে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে সহকারী প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হুমায়ুন কবির দাবি করেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলার আদেশ সরাসরি উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে এসেছে। তিনি আরো দাবি করেন, যে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেখানে তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন। উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা যাতে ভেতরে আসতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন থেকে সিদ্ধান্ত হয় যে যারাই ভেতরে আসবে, তাদের যে কোনো মূল্যে ফেরাতে হবে। সেটা করতে গিয়ে দা, লাঠিসহ যত ধরনের দেশীয় অস্ত্র আছে, সেগুলো দিয়ে শিক্ষার্থীদের মেরে বিলের মধ্যে, রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। শিক্ষক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি তো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনেই ছিলাম। যখন বৈঠকটা হয়, তখন আমি এর প্রতিবাদ করেছি যে এ রকম সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। তারা আমার কথা মানেনি।’

উচ্চতর শিক্ষালাভের জন্য জাপান ভ্রমণ বাতিল করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন গণিত বিভাগের শিক্ষক মিনারুল হক। এছাড়া শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে সমর্থন করে সংহতি প্রকাশ করেছেন সচেতন শিক্ষক সমাজসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আইন বিভাগের ছাত্র সোহাগ হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টিসহ যত প্রতিকূলতাই আসুক না কেন, উপাচার্যের পদত্যাগ না করিয়ে আমরা ঘরে ফিরব না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলা, অর্থনীতি, সিএসিই বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমাদের গায়ে হাত পড়েছে। আমাদের ২০ জন সহপাঠী আহত হয়েছে। বোনদের ওপরও হাত দেওয়া হয়েছে। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তারা বিলে ঝাঁপিয়ে আত্মরক্ষা করেছে। কোনো কিছুই আমাদের আন্দোলন দমাতে পারবে না।’