যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। এর আগে কয়েকবারই মার্কিন কংগ্রেসে অভিশংসনের ঝুঁকিতে পড়েছিলেন। এখন তাকে নিয়ে আবার বিতর্ক শুরু হয়েছে। তাকে অভিশংসন করা যাবে কিনা এই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিতর্ক মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বি জো বাইডেনকে ঘিরে। তাদের সঙ্গে জড়িয়েছে ৫ হাজার মাইল দূরের দেশ ইউক্রেনও। খবর বিবিসির
কিছুদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন যেন তারা বাইডেন পরিবারের কথিত ‘দুর্নীতির' ব্যাপারে তদন্ত করে। কারণ বাইডেনের ছেলে হান্টার ইউক্রেনের একটি গ্যাস কোম্পানির পরিচালক ছিলেন। ট্রাম্প চাপ প্রয়োগের কথা অস্বীকার করলেও স্বীকার করেছেন যে জুলাই মাসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপে তিনি বাইডেন এবং তার ছেলে হান্টারের দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। এ নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে শুরু হয়েছে হৈচৈ। এই তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পরপরই ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কংগ্রেসে অভিশংসন প্রস্তাব আনার দাবি তুলেছেন। সিনিয়র ডেমোক্র্যাট এ্যাডাম শিফ যিনি এর আগে ট্রাম্পকে অভিশংসন করার বিরোধী ছিলেন তিনিও বলছেন, ট্রাম্প এক্ষেত্রে হয়তো সীমা লংঘন করেছেন।
ব্যাপারটা কী?
২০১৪ সালে বাইডেন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ইউক্রেনের ব্যাপারে মার্কিন নীতি কি হবে তার একজন মুখ্য নির্ধারক ছিলেন। সেসময়েই ছেলে হান্টার বাইডেন ইউক্রেনের প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি বুরিসমার একজন পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। তখনই প্রশ্ন উঠেছিল যে এখানে স্বার্থের সংঘাত হচ্ছে কিনা। রুশপন্থি প্রেসিডেন্ট সদ্য ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। তখন বাইডেন ঘনঘন ইউক্রেন সফরে যাচ্ছিলেন। ২০১৬ সালে বাইডেন ইউক্রেন সরকারের ওপর চাপ দিয়েছিলেন যাতে তারা তাদের শীর্ষ কৌঁসুলি ভিক্টর শোকিনকে বরখাস্ত করে। বাইডেন বেশ গর্ব করে চাপ দেবার কথা স্বীকার করে বলেছিলেন, আমি ওদের (ইউক্রেনীয়দের) বললাম, আমি এখানে ৬ ঘন্টা আছি। তোমরা যদি শোকিনকে বরখাস্ত না করো, তাহলে তোমাদের যে ১০০ কোটি ডলারের ঋণ পাবার কথা, তা দেওয়া হবে না। চাপের কারণ হলো বুরিসমা কোম্পানির মালিকের দুর্নীতির তদন্ত করছিলেন শোকিন। ট্রাম্প এবং তার মিত্রদের অভিযোগ, বাইডেন তার ছেলেকে সুরক্ষায় এ কাজ করেছিলেন। তবে বাইডেন বলেন, তিনি তার ছেলের সঙ্গে কখনো তার ব্যবসা নিয়ে কথা বলেননি।
যুক্তরাষ্ট্রে কী ঘটছে?
যারা নিজের পরিচয় গোপন রেখে দুর্নীতির খবর মিডিয়াকে জানিয়ে দেন তাদের বলে ‘হুইসলব্লোয়ার’। এমনই এক গোয়েন্দা হুইসলব্লোয়ার সম্প্রতি অভিযোগ দায়ের করেন যে ট্রাম্পের সঙ্গে এক বিদেশি নেতার কথা হয়েছে এবং সেখানে কিছু একটা অঙ্গীকার করা হয়েছে। অভিযোগটি মার্কিন কংগ্রেসের হাতে তুলে দেবার কথা। কিন্তু গত সপ্তাহে খবর বেরোয় যে ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগটি হস্তান্তর করতে দিচ্ছে না। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোন অভিযোগ জরুরি এবং বিশ্বাসযোগ্য বলে বিবেচিত হলে সাত দিনের মধ্যে তা কংগ্রেসকে জানাতে হবে।
ট্রাম্প বলছেন, তিনি গত ২৫ জুলাই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেন অভিনন্দন জানাতে। তবে তাতে উল্লেখ ছিল দুর্নীতি, বাইডেন ও তার ছেলের নাম। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি অন্যায় কিছু করেননি এবং যে অভিযোগ উঠেছে তা দলীয় সংকীর্ণতাপ্রসূত। মার্কিন পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানাচ্ছে, ট্রাম্প প্রায় আটবার জেলেনস্কির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যে তিনি হান্টার বাইডেনের ব্যাপারে তদন্তের জন্য যেন তার আইনজীবী রুডি জুলিয়ানির সহযোগিতা নেন। প্রশ্ন হচ্ছে : একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট কি তার সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বির পরিবারের ব্যাপারে তদন্ত করতে অন্য দেশের নেতাকে আহ্বান জানাতে পারেন? এ ঘটনার জন্য ট্রাম্পকে কি অভিশংসন করা যায়? ডেমোক্র্যাট শিবির এখনও এ প্রশ্নে বিভক্ত।
