চট্টগ্রামে ক্লাবপাড়ায় অস্থিরতা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামে র্যাব ও পুলিশ কর্তৃক বিভিন্ন ক্লাবে চলা ক্যাসিনো, জুয়া, মদসহ অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আতঙ্ক শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে পরিচিত ক্লাবসমূহে গত কয়েক দিনের অভিযানের প্রেক্ষিতে অবৈধ কর্মকাণ্ডের হোতাদের অনেককে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না। শুধু ক্লাব পাড়াই নয় বরং বিভিন্ন চিহ্নিত স্থানসমূহে প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে চলা জুয়া, মদসহ অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা অধিকাংশ গা-ঢাকা দিয়েছে। কারণ ইতিপূর্বে তাদের পরিচালিত অবৈধ কাজ কারো অজান্তে হয়েছে বলা যাবে না। তাই অপরাধীরা জানেন তাদের ব্যাপারে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানে। তাই তাদের মধ্যে আতঙ্ক ও অস্থিরতা। অন্যদিকে যারা সাধারণ জুয়াড়ি বা অপরাধের সহযোগী তাদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে নগরীর বিভিন্ন ক্লাব, প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত ও এলাকাভিত্তিক পরিচালিত জুয়া ও মদের আসরের সঙ্গে জড়িতদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। চট্টগ্রামের একজন জনপ্রতিনিধি এবং একটি ক্লাবের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত জন বিভিন্ন ক্লাবে ঢালাওভাবে অভিযানের প্রেক্ষিতে গণমাধ্যমে উম্মা প্রকাশ করায় ক্লাবসমূহের অস্থিরতা ফুটে উঠেছে। র্যাবের অভিযানে ইতিমধ্যে কয়েকটি ক্লাবে জুয়া খেলার সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে যে সকল স্থানে জুয়ার মতো অবৈধ কাজ পরিচালিত হয়ে আসছে তার অধিকাংশের ক্ষেত্রে মদসহ মাদক জাতীয় সামগ্রীর সেবন ও বেচা-কেনা হওয়া স্বাভাবিক। খেলাধুলা করার মাধ্যমে ছেলেমেয়েদেরকে অবৈধ ও অন্যায় পথ থেকে ফেরানোর কথা তদস্থলে ঐ সকল ক্লাব ও সংগঠন জুয়া এবং মাদকের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হওয়া কতটুকু যৌক্তিক তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশিষ্ট জনেরা। অনেক ক্লাবের কর্মকর্তা প্রকাশ্যে বলছেন জুয়া চালু না থাকলে তারা ক্লাবের ব্যয় কীভাবে নির্বাহ করবেন। তারা ক্লাবে জুয়া চালু রাখার পক্ষে প্রকাশ্যে বলেছেন। আবার অনেকে বলেছেন অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে মানসিক-শারীরিক এবং সমাজ গঠনে ক্লাব পরিচালনার যৌক্তিকতা কোথায়।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ক্লাব ম্যানেজমেন্ট কমিটি জুয়া পরিচালনার জন্য ক্লাবের অবকাঠামো অন্যকে ভাড়া দিয়ে দেয়। প্রতিদিন জুয়ার আসর থেকে ক্লাবের ফান্ডে যতটুকু না যায়, তার চেয়ে বেশি যায় ব্যক্তির পকেটে।
