জি কে শামীম, খালেদ ও স্বজনদের ব্যাংক হিসাব জব্দ

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:৩৩

র্যাবের হাতে আটক হওয়া যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া ও জি কে শামীম এবং তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) এক নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ব্যাংকগুলো এ উদ্যোগ নিয়েছে। জি কে শামীমের ব্যাংকে ৩০০ কোটি টাকা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এছাড়া ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের নেতা নুরুন নবী চৌধুরী শাওন, তার স্ত্রী ফারজানা চৌধুরী,      ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। ব্যাংক হিসাব তলবের তালিকায় রয়েছেন চট্টগ্রামের শেখ মাহামুদ জোনাইদ, শারফুল আওয়াল ও জহুর আলম, খুলনার এস এম আজমল হোসেন, সিরাজগঞ্জের ব্রজ গোপাল সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি রাজধানীর ক্লাবগুলোতে র্যাবের অভিযানে ক্যাসিনো চালানো এবং এর সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েক জনকে আটক করা হয়। এই আলোচনার মধ্যেই যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা পরিচয় দেওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জি কে বিল্ডার্সের মালিক জি কে শামীমকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তার অঢেল অর্থের হদিস মিলতে শুরু করে। সূত্র জানিয়েছে, রবিবার জি কে শামীমের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য বড়ো অঙ্কের চেক কয়েকটি ব্যাংকে জমা পড়ে। এরপর ব্যাংকগুলো থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগাযোগ করে পরামর্শ চাওয়া হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, জি কে শামীম, তার স্ত্রী ও মা-বাবার নামে থাকা সব ব্যাংক হিসাব অপ্রচলনযোগ্য করতে হবে। এ সংক্রান্ত সব তথ্য পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে বলা হয়।

চার ক্যাসিনোর সরঞ্জাম আমদানিকারকের সন্ধান

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ক্যাসিনোর বিভিন্ন সরঞ্জাম আমদানির আড়ালে কারা রয়েছেন—তা উদঘাটনে মাঠে নেমেছে। ইতিমধ্যে চার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সন্ধান মিলেছে। শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, এসব আমদানিকারক গেম ইনস্ট্রুমেন্ট ঘোষণায় ক্যাসিনোর সরঞ্জাম আমদানি করেছে। ঢাকা কাস্টম হাউজ, কমলাপুর আইসিডি ও বেনাপোল বন্দর দিয়ে এসব সরঞ্জাম খালাস হয়েছে। আমদানি হয়েছে মূলত চীন থেকে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—এ এম ইসলাম অ্যান্ড সন্স, নিনাদ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, পুষ্পিতা এন্টারপ্রাইজ ও এ থ্রি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল।

যোগাযোগ করা হলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে আমরা কিছু আমদানিকারকের তথ্য পেয়েছি। এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধান চলছে। ধারণা করছি, মিথ্যা ঘোষণায় এসব সরঞ্জাম এসেছে। শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারব।’