বড় কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হলো জিসিসি সম্মেলন

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:০০

বড় কোনো অগ্রগতি ছাড়াই ৩৯তম গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) শীর্ষ সম্মেলন শেষ হয়েছে। গত রবিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ছয় জাতির এই সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

কাতারের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এবার জিসিসির বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই দুইটি ইস্যু ছাড়াও এবারের বার্ষিক সম্মেলনে ইয়েমেন যুদ্ধ, ইরানের আঞ্চলিক তত্পরতাসহ তেল সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। তবে দেশগুলোর প্রতিনিধিরা এসব সংকটে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতির কথা জানাতে পারেননি। কাতারের ওপর আরোপিত অবরোধের কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এই জোটটির কার্যকারিতা আসলে হুমকির মুখে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিধর প্রতিবেশী ইরাক ও ইরানের বিপরীতে নিজেদের আত্মরক্ষার স্বার্থে ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জিসিসি। জোটটির ছয় সদস্য হচ্ছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), বাহরাইন, ওমান, কুয়েত ও কাতার।

সন্ত্রাসবাদে সহায়তা ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে ২০১৭ সালের জুনে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কচ্ছেদ করে জিসিসির অন্তর্ভুক্ত দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও বাহরাইন। কাতার বরাবরই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছে। সৌদির অবরোধের সিদ্ধান্তকে সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে দেখেছে কাতার। গত সপ্তাহে আকস্মিকভাবে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দেয় দেশটি।

৫৭ বছর পর ওপেক থেকে কাতারের বেরিয়ে আসা এবং গ্যাস খাতের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি জিসিসি প্রধান সৌদি আরবের জন্য চপেটাঘাত হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া তেলক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে বেশ কিছু ইস্যুতে বিরোধ রয়েছে কুয়েতেরও। তাই রিয়াদ সম্মেলনে এই জটিলতাগুলো পুরোপুরি নিষ্পত্তি হওয়ার সুযোগ ছিল না বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের। এই সম্মেলনে কাতারের আমিরকে সৌদি বাদশাহ সালমান আমন্ত্রণপত্র পাঠালেও সেখানে যাননি শেখ তামিন বিন হামাদ আল থানি। কাতারের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল-মুরাইখি।