>> জাহিদ হাসান দিপু
দিন দিন কর্মক্ষেত্রে বাড়ছে নারীদের অংশগ্রহণ। বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি তাদের মধ্য থেকে বের হয়ে আসছেন নারী উদ্যোক্তারা। অনেকেই ঘরে বসে গ্রাহকদের দিচ্ছেন নানা রকম প্রসাধনী, আবার অনেকেই পুঁজি সংগ্রহ করে খুলে ফেলছেন বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ড্রেসের শো-রুম। তেমনি একজন উদ্যোক্তা সুমনা পারভিন সাদিয়া। নিত্যনতুন ফ্যাশনের প্রতি ভালোবাসা থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে পড়াশোনা আর তারপর চাকরি ছেড়ে নিজের মনের মতো করে সাজিয়েছেন ফ্যাশন হাউজ ডেইজি ডু।
ছোটবেলা থেকে ফ্যাশন আর মেকআপের প্রতি আলাদা একটা টান ছিল সাদিয়ার। নিয়মিত টেলিভিশনে বিভিন্ন ফ্যাশন শো দেখতেন। ভাবতেন, আমিও একদিন একটা ডলকে শাড়ি পড়াবো। সেটা কোনো একটা শো-রুমে সাজানো থাকবে আর মানুষ সেটা দেখবে। সে কারণেই শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স করেন ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের উপর। এরপর একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্চেন্ডাইজিং-এ মাস্টার্স ডিগ্রি নেন। বের হয়েই একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেন সহকারী মার্সেন্ডাইজার হিসেবে। তবে বেশিদিন সেখানে চাকরি করেননি তিনি। পরে আরেকটি টেলিকমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠানে চাকরি শুরু করলেও সেখান থেকেও চলে আসেন তিনি।
চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুরু করার কথা ভাবেন সাদিয়া। বড়বোন রোকেয়া আক্তারও জানান সেও কিছু করতে চায়, তবে একার পক্ষে সম্ভব নয়। তারপর দুবোন মিলে স্বপ্ন পথে পা বাড়ান। তবে রাস্তা মোটেও মশৃণ ছিল না, তারপরও সকল বাধা-বিপত্তি পার করে প্রতিষ্ঠা করেন নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘ডেইজি ডু’। নিজের ডিজাইনের পাশাপাশি দেশের বাইরে থেকে বিভিন্ন ফ্যাশনেবল ড্রেস নিয়ে আসতে শুরু করেন। কাপড় চেনা ও ফ্যাশন ডিজাইনিং এর পূর্ব অভিজ্ঞতা তাকে সাহায্য করে সবচেয়ে সুলভ দামে ভালো মানের কাপড় নির্ধারণ করতে। কাপড় সংগ্রহ, কেনা থেকে শুরু করে হাতের কাজের ডিজাইন দেওয়া পর্যন্ত সব নিজেই সামলান তিনি। নিজেদের স্বপ্ন পূরণ আর আত্মনির্ভরশীলতার পাশাপাশি তাদের এই উদ্যোগে সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগ।
স্বপ্ন পূরণের পর তা যতটা সুন্দর দেখা যায়, পূরণের পথা থাকে ততোটাই বাধা-বিপত্তি। তিনি জানান, আমি যে সময় ফ্যাশন ডিজাইনিং পড়ার সি"ান্ত নেই, তখন সমাজের মানুষজন এই ব্যাপারটাকে ভালো চোখে দেখতো না। তাদের ধারণা ছিল, ফ্যাশন ডিজাইনিং পড়লে আমি হয়তো উ"্ভট হয়ে যাবো, উ"্ভট কাপড় কিংবা মালা পড়ে ঘুরবো বা মাদকাসক্ত হয়ে যাবো। সবাই চায় প্রতিটা ছেলে মেয়ে ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হোক। ফ্যাশন ডিজাইনিং ব্যাপারটাকে কেউই সহজভাবে নেয় নি সে সময়। এরপরও সব কিছু পার করে পড়ালেখা, স্বপ্ন দেখা আর এই প্রতিষ্ঠানের শুরু।
নতুনদের উদ্দেশ্যে সাদিয়া বলেন, যাই করুন না কেন, আগে সেই সম্পর্কে খুঁটিনাটি সব কিছু জানুন, বুঝুন এবং পড়াশোনা করুন। আলাদা এবং নতুন কিছু করার চেষ্টা করুন। নতুন আইডিয়া নিয়ে ব্যবসায় নামুন। সাফল্য আসবেই।
ছবি :সুমন কবির
