হলকৃষির এক দারুণ উদ্যোগ

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৭:৫২

>> মাহবুব নাহিদ

 

সম্প্রতি সারা বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বিগ্ন সবাই। বৈশ্বিক তাপমাত্রা দিনদিন বেড়েই চলছে। পরিবেশবাদীরা ব্যস্ত হয়ে রয়েছেন এর প্রতিকার খুঁজতে। নিজেদের হল ও ক্যাম্পাসকে সবুজ করে তোলার এক দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছে হলকৃষি। হলকৃষি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের একটি সংগঠন। তারা নিজেদের হলে কৃষিকাজের অনবদ্য একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাদের সেই উদ্যোগ এখন ছড়িয়ে পড়েছে সারা ক্যাম্পাসে, এমনকি অন্যান্য ক্যাম্পাসেও। কথা হয়েছিল হলকৃষির মূল কর্ণধার সোহানুর সোহানের সঙ্গে।

কৃষি অনুষদের ১৩ তম ব্যাচের ছাত্র নিয়াজ মুর্শীদের থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তিনি শুরু করেন এই কাজ। তিনি প্রথমে নিয়াজের রুমে দেখেছিলেন বিভিন্ন গাছপালা। এরপর তিনি নিজের গণরুমে লাগান কয়েকটি গাছ। পরবর্তীতে তিনি যখন রুমে চলে যান, তখন শুরু হয় মূল কর্মযজ্ঞ। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন হলকৃষির কর্মকাণ্ড। ক্যাম্পাসে তারা প্রথম অনুষ্ঠান করেন। এই প্রোগ্রামে তারা ১২০টি ক্যাকটাস ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করেন। প্রথমে সোহানের নিজের হল এম. কেরামত আলী থেকে শুরু হলেও পরবর্তীতে ছড়িয়ে পড়ে সকল হলে। তাদের হলের তত্কালীন প্রভোস্ট ড. গোপাল সাহা, উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. মাহবুব রব্বানীসহ অন্য হলের প্রভোস্টবৃন্দ, প্রভোস্ট কাউন্সিলের কনভেনরসহ অনেকেই তাদের এই কর্মযজ্ঞে সহায়তা ও অনুপ্রেরণা প্রদান করেন।

তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন প্রায় ২৫০০-৩০০০ পটে বিভিন্ন গাছ রয়েছে। এসকল পটে ক্যাকটাস, মরিচ, ক্যাপসিকাম, লেমন গ্রাস, পুদিনা, ঘৃতকুমারী, কুঞ্জলতা, নয়নতারা, কাটামুকুট, লালসালুসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ রয়েছে। রয়েছে বট, পাকুর, চাইনিজ পাকুরের বনসাইও। এই কার্যক্রমে মেয়েরাও সক্রিয়ভাবে জড়িত। তারাও হলে ঘৃতকুমারী, মানি প্ল্যান্টসহ বিভিন্ন অর্নামেন্টাল গাছ লাগিয়ে থাকেন।

হলকৃষি নামে তাদের একটি ফেসবুক পেজ রয়েছে। সেখানে কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য প্রদান করা হয়। হলকৃষি সংগঠনের সক্রিয় সদস্য সংখ্যা প্রায় ২০০। তাদের একটি ফেসবুক গ্রুপ রয়েছে। সেখানে সদস্য সংখ্যা সহস্রাধিক। হলকৃষির মূল মন্ত্র হলো ‘Make green, live green’। তাদের রয়েছে দুটি লক্ষ্য। তারা যে সমস্ত গাছ লাগাবেন, তা প্লাস্টিকের পটসহ বিভিন্ন ধরনের ফেলে দেওয়া জিনিসে করবেন। যাতে করে এগুলো ফেলে দিলে পরিবেশের ক্ষতি না হয়। আর তারা হলের সকলের খাবার, সবজির উচ্ছিষ্ট অংশ দিয়ে তৈরি করছেন জৈব সার। তাদের দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো একটি একক পটকে একটি অক্সিজেন ফ্যাক্টরি হিসেবে তৈরি করা।

এ বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি গাছের প্রতি ভালোবাসা থেকে তারা আয়োজন করেন গ্রিন ফেয়ারের। হলকৃষির এই কার্যক্রম নিয়ে অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তাদের। সোহান জানান, চলার পথে অনেকের সহযোগিতা পেয়েছেন তিনি, বিশেষ করে তার বন্ধু জুগল, রেজা ও ইমরানের। তাদের লক্ষ্য ইকো ফ্রেন্ডলি হল তৈরি করা এবং সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা। কথা হলো হলকৃষির মূল অনুপ্রেরণাদাতা নিয়াজ মুর্শীদের সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে নিজের রুমে গাছ লাগাতাম। ওরাই এর মূল উদ্যোক্তা। ওরা সংগঠন করার উদ্যোগ নিলে আমি শুধু কিছু পরামর্শ দিই আর একটা বড় ক্যাকটাস দিই। ওরা এখন দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।’ সকল যান্ত্রিকতাকে পিছনে ফেলে এই অনন্য উদ্যোগ আসলেই প্রসংশনীয়। তাদের এই পথচলা সুন্দর ও শুভ হোক।