তাজবিদুল ইসলাম
এইতো সেদিন, যেদিন লক্ষ্য অর্জনের জন্য চোখে আলোর দ্যুতি আর দিগন্ত ছোঁবার আশা বুকে বেঁধে উচ্চশিক্ষার জন্য পা রেখেছিলাম আমাদের ক্যাম্পাসে। আমার কাছে সেদিনটা ছিল অন্য সব দিনের থেকে আলাদা। কারণ, উচ্চশিক্ষার এই প্রাঙ্গণের সেদিন থেকে আমি পেয়েছিলাম নতুন বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, একইসঙ্গে শিক্ষকদের বন্ধুসুলভ আচরণ ও সুশিক্ষা, যা একটু একটু করে আমাদের শিখিয়েছে ‘জীবন গড়ার মূলমন্ত্র।
দেখতে দেখতে এই রঙিন দিনগুলো ফুরিয়ে আজ আমরা আমাদের শিক্ষাজীবনের শেষ বিন্দুতে অবস্থান করছি; কিন্তু এই ক্যাম্পাস, ক্যাম্পাসের প্রতিটি মানুষ, শিক্ষক, সেইসঙ্গে ক্যাম্পাস থেকে অর্জিত শিক্ষাগুলো আমাদের পরবর্তী জীবনে জড়িয়ে থাকবে পরিধির মতো। আমরা সবাই বাঁধা থাকব একই বৃত্তে।
ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ (ইউডা)-এর এমবিএ ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সমাপনী উত্সবে শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে এভাবেই নিজেদের সোনালি সময়গুলোর স্মৃতিচারণ করছিলেন হাসানুল হাবিব তুষার এবং লুত্ফুন নাহার লাবনী। তাদের বক্তব্য ধীরে ধীরে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশের। অথচ কিছু সময় আগে এই শিক্ষার্থীরাই আনুষ্ঠানিক ভাবে কেক কেটে মেতে উঠেছিলেন খুনশুটিতে।
অনুষ্ঠানে বিদায়ি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— ইউডা মাস্টার্স প্রোগ্রাম পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ সেলিম, প্রক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক তপন কুমার বিশ্বাস, কো-অর্ডিনেটর ও সহযোগী অধ্যাপক মোস্তফা কামাল এবং অনুষ্ঠান কনভেনার সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-হিল মুনতাকিম। অনুষ্ঠানে উত্সাহ জুগিয়েছেন ইউডা প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুজিব খান এবং সহযোগিতা করেছেন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফফাত চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনের সঙ্গে কর্মজীবনের শিক্ষার সেতুবন্ধ করে ঈশিতা রায় বলেন, জীবনে শিক্ষা গ্রহণের কোনো শেষ নেই। তার সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেন তাসলিমা আক্তার ও সোহানা ইভা।
শিক্ষাজীবনের নানা স্মৃতিচারণ করে সহপাঠীদের উদ্দেশে ৪৯তম ব্যাচের মনিটর রিয়াদ হোসেন রিপন ও মামুর হাসান নোমানী বলেন, এতদিন সুখে-দুঃখে, আনন্দ-বেদনায়, গল্প-আড্ডায় আমরা মিশে ছিলাম একে অপরের সঙ্গে। এখন সেই খুনশুটিগুলো হয়তো আর পাব না। শিক্ষাজীবনের শেষে এরপর হয়তো আমরা অনেকেই বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাব; কিন্তু এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আমাদের যোগাযোগ বা বন্ধুত্ব কিন্তু হারাবে না।
অনুষ্ঠানে বিদায়ি শিক্ষার্থীদের মঙ্গল কামনা করে ড. আব্দুল্লাহ-হিল মুনতাকিম বলেন, এতদিন ক্লাস রুমে বসে তোমরা যে শিক্ষা গ্রহণ করেছ তার প্রতিফলন ঘটবে তোমাদের কর্মজীবনে, সঙ্গে যুক্ত হবে নতুন কিছু অভিজ্ঞতা। মিশরের যেমন নীল নদ তাদের অহংকার, তোমরাও হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অহংকার। পরিশেষে তিনি কবি জীবনানন্দ দাসের উক্তি উল্লেখ করে বলেন, মুহূর্তের মধ্যে ফিরে এসে বুঝেছি অকূলে জেগে রয় ঘড়ির সময়ে আর মহাকালে যেখানেই রাখি এ হূদয়- তুমি আছো বলে আমি আছি তাই, আমরা সকল শিক্ষকেরা আছি তোমাদের সাথে সব সময়।
