পথশিশুদের নিয়ে ভাবতে হবে

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৪৪

ঢাকায় বসবাসকারী নাগরিক হিসেবে এই দায় আমরা এড়াতে পারি না। ঢাকার পথশিশুদের নিয়ে আমাদেরই ভাবতে হবে, ভাবতে হবে রাষ্ট্রকেও। পথশিশুদের নিয়ে কাজ করা মানবিক সংগঠন বেশ অনেকগুলোই আছে ঢাকায়, যারা তাদের প্রতি মানবিক ও আন্তরিক। পথশিশুদের পড়াশোনার দায়িত্বও নিয়েছে কিছু সংগঠন। মাঝে মাঝে দেখা যায় রেলওয়ে স্টেশনে ও শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে খোলা জায়গায় এদের একত্রিত করে পাঠদান করছে কিছু তরুণ-তরুণী—এ দৃশ্য ভালো লাগে। কোনো কোনো সংগঠন খাবার পরিবেশন করে পথশিশুদের মাঝে। অনেক বিদেশিও এ দেশে ছিন্নমূল শিশুদের ভাগ্য বদলাতে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন ও করছেন। সরকারিভাবে সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম আছে। কিন্তু এগুলো প্রশ্নবিদ্ধ। কিশোর পুনর্বাসন কেন্দ্রে শিশু-কিশোরদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করার খবর বেরিয়েছে বহুবার। এদের জন্য খাবারদাবারের আয়োজনেও দুর্নীতি ও শিশুদের প্রতি মানবিক কর্মচারীর অভাব। এই জীবন থেকে বাইরের পথজীবনই শ্রেয় তাদের কাছে। দুর্নীতির কাছে মানবতা মরেই গেছে বলা যায়। নিজস্ব উদ্যোগে যেসব দেশি-বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কাজ করে, তা আন্তরিক ও এক শত ভাগ মানবিক। এসবে আসলে ভাসমান পথশিশুদের চূড়ান্ত নিশ্চয়তা হচ্ছে না। এটা রাষ্ট্রের কাজ। আজেবাজে খরচ কমিয়ে রাষ্ট্রকে এদিকে অবশ্যই নজর দিতে হবে। ফিরিয়ে দিতে হবে পথশিশুদের স্বাভাবিক জীবন, এইটা রাষ্ট্রকেই করতে হবে।

মির্জা আবু হেনা কায়সার টিপু, উত্তরা, ঢাকা