বেঁচে থাকার জিয়নকাঠি

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৪৪

প্রাকৃতিক ভারসাম্য মানুষ তথা সমগ্র প্রাণী ও উদ্ভিদ জগতের বেঁচে থাকার জন্য একান্ত অপরিহার্য। এ ভারসাম্য বজায় রাখতে যথাযথ সংখ্যায় সকল প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতির বেঁচে থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। আর প্রাণীকুলের জীবন ধারণের জন্যই প্রয়োজন সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের। জীববৈচিত্র্য হচ্ছে পৃথিবীকে রক্ষা করার একটি কবচ। এটা প্রাণীকুলের অস্তিত্বের জন্য দরকার। পৃথিবীব্যাপী জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও তাদের টেকসই ব্যবহার সম্পর্কিত জাতিসংঘ গঠিত সিবিডি (কনভেনশন অন বায়োলজিক্যাল বায়োডাইভার্সিটি) সচিবালয় থেকে বলা হয়েছে, আমাদের খাদ্য ও স্বাস্থ্যের ভিত্তি হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতি ও খাদ্যপদ্ধতির রূপান্তরে জীববৈচিত্র্য মূল অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে। আমাদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের জন্য এবং স্বাস্থ্যসম্মত বাস্তুতন্ত্রের জন্য জীববৈচিত্র্য খুব প্রয়োজন। উর্বর পলিমাটির জমি এবং উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর কারণে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্যে খুবই সমৃদ্ধ। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য হচ্ছে, এ দেশে ক্রমশ নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে বিপুল জীববৈচিত্র্য, যা এক মহা অশনিসংকেত। আজকাল বিশ্বব্যাপীই জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের দাবি ও উদ্যোগ প্রবল হয়ে উঠেছে। কিন্তু আমরা কি পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, প্রাণী ও উদ্ভিদ বিলুপ্তি, পরিবেশের ভারসাম্য কথাগুলোর অর্থ ঠিকভাবে বুঝতে পারছি? এখন পর্যন্ত আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ জীববৈচিত্র্য রক্ষার ব্যাপারে সচেতন নয়। আমাদের বেঁচে থাকার জিয়নকাঠি জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হলে এখনই সকল পেশার মানুষকে প্রকৃতি, প্রাণী, উদ্ভিদ ও পরিবেশ রক্ষায় সজাগ হতে হবে। উল্লে­খ্য, বাংলাদেশ সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যত্ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করিবেন’ বলে সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।

মুনযির আকলাম

কোরপাই, বুড়িচং, কুমিল্ল­া ৩৫০০