দুরন্ত বাচ্চাকে কথা শোনাতে, বাধ্য আচরণ করাতে কিংবা নিয়মের মধ্যে রাখতে সবসময় শাসন করা হয়। এই অতিরিক্ত শাসন সন্তানের জন্য সুফল না কুফল বয়ে আনছে? শাসনের বেড়াজালে আবদ্ধ করে রাখলেই সন্তান আদর্শ মানুষ হয়ে বেড়ে ওঠে না। বরং তার প্রতি রুক্ষ আচরণ তার সঙ্গে দূরত্ব আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। সে মানসিকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছে এবং পাশাপাশি তার মননশীলতার বিকাশও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সন্তানের অন্যায় আচরণের জন্য তাকে সীমিত শাসন করা যেতেই পারে। তবে তা যেন কখনোই মাত্রা ছাড়িয়ে না যায়। সবসময় শাসন দিয়ে সব ঠিক করা যায় না। বরং ভালবাসা আর মমতা দিয়েও বখে যাওয়া সন্তানকে পথে আনা যায়। অতিশাসন বাচ্চাদের সাবলীল বিকাশের পথ রুদ্ধ করে দেয়। তার সৃজনশীলতা বিকশিত হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে থাকে। সে হীনম্মন্যতায় ভোগে এবং যে কোনো বিষয়েই সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পায়। অনেক সময় অনেক শিশু হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত শাসনের ভয় বাচ্চাকে ভীতু বানিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া আপনার প্রতি তার বিরূপ ধারণা জন্ম নিচ্ছে। অনেক সময় অতি শাসনে শিশু বখে যায়। জেদ করে, একরোখা হয়ে গড়ে ওঠে। বাচ্চাকে বশে আনার জন্য শারীরিক শাস্তি দিলে সে মনে করবে এটাই সঠিক পন্থা কাউকে বশে আনার জন্য। সে মন মানসিকতায় সহিংসতাকে সমর্থন করে বেড়ে উঠবে। আর তার মধ্যে ধারণা জন্মাবে যে, সরলরা দুর্বলের ওপর সহিংস আচরণ করতেই পারে।
শারীরিক শাস্তির ভয়ে পড়া ভালোভাবে মনে রাখতে পারবে না। সেক্ষেত্রে স্কুলেও প্রত্যাশিত ফলাফল করতে ব্যর্থ হবে। যার ফলে পড়ালেখার প্রতি অমনোযোগী হয়ে পড়বে । অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়। বাচ্চার অন্যায় আচরণের জন্য তাকে বুঝিয়ে বলুন কিংবা সীমিতভাবে শাসন করুন। কখনোই গায়ে হাত তুলবেন না। চেষ্টা করুন আপনার সন্তান যেন ভালোবেসেই আপনার কথা শোনে।
মো.ওসমান গনি শুভ
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
