বিনা সুদে কৃষিঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:২৭

চলছে নীতিমালা তৈরির কাজ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

কৃষকের ব্যাংক ঋণের সুদ দেবে সরকার। কৃষক কেবল ঋণের আসল ব্যাংককে পরিশোধ করবে। কৃষককে এ সুবিধা দিয়েই ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নীতিমালা’ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষি তথ্য সার্ভিসের কনফারেন্স রুমে ‘আধুনিক কৃষি তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার’ শীর্ষক  তিন দিনের  প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কৃষি সচিব বলেন, এই নীতিমালা পাশ হলে কৃষক বিনা সুদে ঋণ পাবেন। আমরা চাই লাভজনক ও নিরাপদ কৃষি। এ নিয়ে কাজ চলছে। তিনি বলেন, কৃষি উত্পাদন দ্বিগুণ করতে আবাদি জমিকে চার ফসলি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ফসলের উত্পাদন দ্বিগুণ করতে হবে। বর্তমানে হেক্টরে উত্পাদন হয় ২ দশমিক ৬৬ মেট্রিক টন। যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ দশমিক ৩২ মেট্রিক টনে উন্নীত করতে হবে।

কৃষি সচিব বলেন, কিন্তু এ লক্ষ্যপূরণে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কৃষক উত্পাদিত পণ্যে সঠিক দাম পাচ্ছে না। উত্পাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে কৃষি থাকবে না। কৃষক কম দামে পণ্য বিক্রি করেন অথচ বেশি দাম দিয়ে কেনেন। যখন ঘরে ধান ওঠে তখন ৩০ টাকা কেজি দরে ধান বিক্রি করে কৃষক। পরবর্তীতে সে চাল কৃষক ৩০ টাকার পরিবর্তে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় কেনেন।

এতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে দাবি করে কৃষি সচিব বলেন, বিশ্বের সব জায়গায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেই কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতিনিয়তই জমি হারিয়ে যাচ্ছে। দেশে নদীভাঙন বেড়েছে। ফলে কৃষকের জমি বিলীন হচ্ছে। নদী খনন করা জরুরি।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের মতো কৃষি সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের এআইপি (এগ্রিকালচারাল ইম্পরট্যান্ট পারসন) ঘোষণা দেওয়া হবে। কৃষিকাজ ও উত্পাদনে আগ্রহ বাড়াতে দেওয়া হবে প্রণোদনা। সিআইপির (কমার্শিয়াল ইম্পরট্যান্ট পারসন) মতো এআইপিরাও ভিআইপি জোনে সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। এ ব্যাপারে নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।

কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক ড. মো. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ইউসুফ, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক আবুল কালাম আযাদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক চন্ডী দাস কুন্ডু। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৩০ জন সাংবাদিক অংশ নেন।