পাঁচ মাস ধরে নেই বালাম বই জমিসংক্রান্ত কাজে জটিলতা

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৩৬

রাণীনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস

আব্দুর রউফ রিপন, রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা

নওগাঁর রাণীনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে  প্রায় পাঁচ মাস ধরে বালাম বইয়ের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে দলিলের দাতা-গ্রহীতাসহ সাধারণ মানুষ। অফিসে জমিসংক্রান্ত কাজে প্রতিনিয়তই বাড়ছে জটিলতা।

সূত্রে জানা গেছে, বালাম বই ভূমিসংক্রান্ত একটি রেকর্ড বই। উপজেলার সব জমির রেকর্ড থাকে এই বালাম বইয়ে। রেজিস্ট্রি অফিসে উপজেলার কোনো জমি বিক্রয় কিংবা ক্রয় করা হলে তার সমস্ত ইতিহাস বালাম বইয়ে তুলে রাখা হয়। পরবর্তিতে ঐ জমি সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রয়োজন হলে কিংবা ঐ জমির নকল তুলতে গেলে বালাম বই থেকে নকলনবীশরা তা তুলে দেন। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত্ রেজিস্ট্রি অফিসে এই গুরুত্বপূর্ণ বালাম বই না থাকার কারণে জমি বিক্রয় কিংবা ক্রয় করার পর দলিল গ্রহীতারা মূল দলিল হাতে পাচ্ছেন না। আর দলিল হাতে না পাওয়ার কারণে তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে দলিলের নকল তুলতে হচ্ছে। আর এই নকল তুলতে গিয়ে রেজিস্ট্রি অফিসে কাজ করতে আসা জনসাধাণের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়াও বালাম বই না থাকার কারণে বসে বসে দিন কাটাতে হচ্ছে নকলনবিশদের। যার কারণে তাদেরকেও অভাব-অনটনের মধ্য দিন কাটাতে হচ্ছে।

রাণীনগর বাজারের জমি গ্রহীতা রাজু বলেন, রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন বালাম বই না থাকায় জমি কিনে আমি পড়েছি চরম বিড়ম্বনায়। কেনা জমির তথ্যাদি বালাম বইয়ে না তোলায় আসল দলিল এখনো হাতে পাই নাই। আমাকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে দলিলের নকল কপি নিতে হলো।

রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিশ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের অফিসে এই গুরুত্বপূর্ণ বালাম বই প্রায় পাঁচ মাস যাবত্ না থাকায় কোনো জমির তথ্য রেকর্ড করতে পারছি না। এতে করে জমির অনেক দলিল জমা হয়ে পড়ছে।

অফিস সহকারী অব্দুল জলিল বলেন, বালাম বইয়ের সংকট দীর্ঘ হওয়ায় জমির দাতা-গ্রহীতাসহ জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করতে এসে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

জেলা রেজিস্ট্রার সৈয়দ মুজিবর রহমান বলেন, এই ভোগান্তির কথা আমি জানি। আমি ওপর মহলের কাছে বইয়ের বিষয়ে বলেছি। তারা অতি দ্রুত এই বইগুলো সরবরাহ করবে বলে আমি আশাবাদী।