স্পোর্টস ডেস্ক
লিওনেল মেসি শেষবার বিশ্বসেরার মুকুটটি জেতার পর কেটে গিয়েছিল চার বছর। এ সময়ে সেরা ফুটবলারের ব্যাটনটা হাতবদল হতে দেখেছেন দুইবার। শেষমেশ চার বছরের অপেক্ষা শেষে আবারও হূত গৌরব পুনরুদ্ধার করলেন আর্জেন্টিনা ও বার্সেলোনা অধিনায়ক। ষষ্ঠবারের মতো গ্রহের সেরা ফুটবলারের খেতাব জিতলেন তিনি।
শেষ কয়বছরে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে গেলেও কোনোভাবেই বর্ষসেরার মুকুটটা জেতা হচ্ছিলোনা তার। পথ আগলে দাঁড়াচ্ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লুকা মদ্রিচদের দলীয় সব অর্জন। দলীয়ভাবে এবারও প্রায় আগের চার মৌসুমেরই পুনরাবৃত্তি ঘটেছে মেসির সঙ্গে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট থেকে বিদায় নিয়েছিল তার দল বার্সেলোনা।
গেল মৌসুমে লা লিগায় তার ৩৬ গোল দলকে শিরোপা ধরে রাখতে সাহায্য করেছিল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও ১২ গোল করে বার্সাকে একাই টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন সেমিফাইনাল পর্যন্ত। নকআউট পর্বে দলের ১১ গোলের নয়টিতেই ছিল তার সরাসরি অবদান। এমন ব্যক্তিগত ঝলক ম্লান করে দিয়েছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেরা ভর্জিল ফন ডাইক ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দলীয় সব অর্জন।
রোনালদো গেল মৌসুমে ৩৫ ম্যাচে ২৩ গোল করে জুভেন্তাসকে শিরোপা ধরে রাখতে সহায়তা করেছিলেন। জাতীয় দলের হয়ে জিতেছিলেন উয়েফা নেশন্স লিগের শিরোপা। এদিকে ফন ডাইক নেশন্স লিগের ফাইনালে খেলেছিলেন রোনালদোর পর্তুগালের বিপক্ষেই। নেদারল্যান্ডসের হয়ে সেবার শিরোপা জিততে না পারলেও লিভারপুলকে ঠিকই ইউরোপসেরা করেছিলেন তিনি।
চার বছর আগে মেসি যখন শেষবার পুরস্কারটা জিতেছিলেন তখন তার নাম ছিল ফিফা ব্যালন ডিঅর। এর এক বছর পরই কাঠামো বদলে ফ্রেঞ্চ ফুটবল ম্যাগাজিন থেকে আলাদা হয়ে যায় সেটি। নাম বদলে ‘ফিফা বেস্ট’ হবার পর প্রথমবারের মতো এ পুরস্কার জিতলেন তিনি।
বার্সা অধিনায়কের কাছে এর মাহাত্ম্য আরো একটি কারণে বেশি। শেষবার যখন জিতেছিলেন পুরো পরিবার সামনে পুরস্কারটি উঁচিয়ে ধরতে পারেননি তিনি। এবার ইতালির মিলানে হওয়া এই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন স্ত্রী ও দুই সন্তান।
সেটাই মেসির কাছে অন্যসব পুরস্কার থেকে আলাদা করে রাখছে এটিকে, ‘আজ আমার জন্যে বিশেষ একটা দিন। আমার স্ত্রী ও সন্তানেরা এখানে আছে এবং প্রথমবারের মতো তারা এমন কিছু একসঙ্গে দেখছে। তারা সবাই এটা উপভোগ করছে, ব্যাপারটা একে অমূল্য করে তুলছে। তারা ফুটবল ভালোবাসে এবং এখানে এতোসব মানুষের ভিড়ে লাজুক হয়ে এটা উপভোগ করছে।’
গেলো মৌসুমের শুরুতে দলকে ইউরোপসেরা করার প্রাণপণ চেষ্টা করবেন, এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ন্যু ক্যাম্পে হাজির ৯০ হাজার ভক্ত-সমর্থকদের। কিন্তু সেবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে লিভারপুলের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল তার দল। ঘরোয়া প্রতিযোগিতাগুলোর মধ্যে লা লিগা জিতলেও কোপা দেল রে হারিয়েছিলেন ভ্যালেন্সিয়ার কাছে হেরে।
কাতালান ক্লাবটির অধিনায়ক জানালেন ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলগত শিরোপাই প্রাধান্য পায় তার কাছে। বিশ্বসেরার পুরস্কারটি গ্রহণের মঞ্চে তিনি বলেন, ‘এখানে যারা আমাকে এই স্বীকৃতিটা দেওয়ার সিদ্ধান্তটা নিয়েছে, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। তবে আমার কাছে ব্যক্তিগত পুরস্কারের চেয়ে দলগত সাফল্যই বেশি প্রাধান্য পায়।’
এছাড়াও ফিফপ্রো বিশ্বসেরা একাদশেও বার্সেলোনার একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। তবে আরো একবার মৌসুমের সেরা গোলের মনোনয়নে থেকেও পুরস্কারটি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে গোলরক্ষকসহ রক্ষণের জটলার ওপর দিয়ে বল পাঠিয়ে করা গোলটি ছিল মনোনয়নে। সেটিকে টপকে বর্ষসেরা গোলের খেতাব জিতেছে হাঙ্গেরীয় লিগে ফেরেঞ্চভারোসের বিপক্ষে করা ডেবারসেন ফরোয়ার্ড দানিয়েল সোরির গোলটি।
