পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে বাংলাদেশ চীন মিয়ানমার

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:০৮

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়নে একটি ‘ত্রিপক্ষীয় ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমার। এই যৌথ গ্রুপ মাঠ পর্যায়ে প্রত্যাবাসনকে সহায়তার জন্য কাজ করবে। নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় সোমবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে চীন ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এ কথা জানান।

ঢাকায় প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, রোহিঙ্গাসংকট নিরসনের প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হচ্ছে চীন। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ, চীন এবং মিয়ানমার যৌথভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পরিস্থিতির মূল্যায়ন করবে। কিছু আপত্তি থাকা সত্ত্বেও চীনের প্রস্তাবে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। অক্টোবরে ত্রিপক্ষীয় কার্যনির্বাহী গ্রুপের প্রথম বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠকে মিয়ানমার দাবি করেছে যে, তারা তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বাংলাদেশ জানিয়েছে, মিয়ানমার এখনো রোহিঙ্গাদের মধ্যে আস্থা ফেরাতে পারেনি। তারা নিজ দেশে তখনই ফিরবে, যখন তারা মনে করবে—ফেরার পর তারা নিরাপদে থাকবে ও স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবে।

রোহিঙ্গারা ফেরত না গেলে বড়ো ধরনের সমস্যা তৈরির বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, এটি চীনারা মানে এবং আজকে মিয়ানমারও স্বীকার করেছে। মিয়ানমার বলেছে,    এটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সবচেয়ে বড়ো কথা হচ্ছে, মিয়ানমার যত দ্রুত সম্ভব তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে। বৈঠকে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত টিন্ট সোয়ে, পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন, মিয়ানমার অণুবিভাগের মহাপরিচালক দেলোয়ার হোসেন, জাতিসংঘ অণুবিভাগের মহাপরিচালক নাহিদা সোবহান, জাতিসংঘ মহাসচিবের রোহিঙ্গাবিষয়ক দূত ক্রিস্টিনা বার্গেনার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নিধন অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নির্যাতন থেকে বাঁচতে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আগে-পরে মিলিয়ে বর্তমানে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। এসব রোহিঙ্গাকে তাদের জন্মভূমিতে ফেরাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। তবে দুই দফা চেষ্টা করেও প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি।