মামলার বাদী যখন আসামি

মতলবে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার আটক দুই

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:২০

ভাতিজা নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় হারানো ডায়েরি করেন জ্যেঠা জামালউদ্দিন। আর সেই জ্যেঠাই ছোটভাইয়ের ছেলে মাহিবকে হত্যা করে টয়লেটের সেফটিক ট্যাংকিতে ফেলে রাখে। এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়নের ঘোনা গ্রামে। গত ১০ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে একই গ্রামের তাজুল ইসলামের টয়লেটের ট্যাংকি থেকে মাহিবের লাশ উদ্ধার করেছে মতলব দক্ষিণ থানা-পুলিশ।

পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, নিখোঁজের দিন জ্যেঠা জামালউদ্দিন শিশু মাহিবকে স্কুলের পাশের নিজের দোকানে ডেকে নেয়। পরে তাকে কৌশলে সেখান থেকে সরিয়ে অভিনব কায়দায় নিজেই বাদী হয়ে থানায় ডায়েরি করেন। পরে পুলিশ তার মোবাইল নাম্বার ট্র্যাকিং করে তাকে আটক করে। তার কাছ থেকে মোবাইল কল লিস্ট ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একসময় সে মাহিবকে হত্যা করে টয়লেটের সেফটিক ট্যাংকিতে রেখে দেয় বলে পুলিশকে জানায়। এ সময় সহকারী পুলিশ সুপার সার্কেল রাজন কুমার দাস, মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ একেএমএস ইকবাল, ইন্সপেক্টর ইব্রাহীম খলিল, এসআই মোঃ রুহুল আমিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে শিশু মাহিবের লাশ টয়লেটের  সেফটিক ট্যাংকি থেকে উদ্ধার করেন।

এদিকে এলাকাবাসী শিশু মাহিবের হত্যাকারী তার জ্যেঠা জামালউদ্দিনের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। এছাড়াও বিক্ষুব্ধ জনতা তার দোকান ভাঙচুর করে, বাড়ি ঘেরাও করে। এ সময় তার দোকানঘর থেকে দেশীয় রাইফেল উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মতলব দক্ষিণ থানার এসএই জহিরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পরিবেশ শান্ত করে। এদিকে পুলিশ ধারণা করছে, মাহিবের বাবা প্রবাসী ও মা শিক্ষিকা হওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী। তাদের টাকা-পয়সার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

মাহিবের মাতা শাহিনা আক্তার জানান, মাহিবকে তার জ্যেঠা মোঃ জামালউদ্দিন হত্যা করে টয়লেটের ট্যাংকি ফেলেছে। আমি এ পাষণ্ড হত্যাকারীর সুষ্ঠু বিচার চাই। মতলব দক্ষিণ থানার, এসআই মোঃ রুহুল আমিন জানান, মাহিবের ব্যবহূত জুতা টয়লেটের ট্যাংকি থেকে ২০০ গজ দূরে পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে মতলব দক্ষিণ থানায় একটি মামলা হয়েছে।