পঞ্চাশেও দুর্দান্ত অসাধারণ

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৪৫

তা হ মি না  মি লি

 

মার্কিন অভিনেত্রী ও গায়িকা জুডি গারল্যান্ডকে নিয়ে নির্মিত বায়োপিক ‘জুডি’ মুক্তি পেয়েছে সম্প্রতি। ছবিতে ১৯৬৯ সালে লন্ডনে ‘টক অব দ্য টাউন’ কনসার্ট করতে আসার পরবর্তী ঘটনাবলি তুলে ধরা হয়েছে। রুপার্ট গুল্ড পরিচালনা করেছেন ‘জুডি’ ছবিটি। বিখ্যাত এই গায়িকা ও অভিনেত্রীর জীবনের গল্প নিয়ে মঞ্চস্থ ব্রডওয়ে নাটক ‘এন্ড অব দ্য রেইনবো’ অবলম্বনে এ ছবির চিত্রনাট্য সাজানো হয়েছে। ছবিতে জুডি গারল্যান্ডের ভূমিকায় দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন বিখ্যাত হলিউডি অভিনেত্রী রেনি জেলওয়েগার। বয়স ৫০ হলেও এখনো তিনি দুর্দান্ত চমক নিয়ে পর্দায় উপস্থিত হয়েছেন। অস্কার, গোল্ডেন গ্লোবসহ আরো বেশ কিছু প্রেস্টিজিয়াস অ্যাওয়ার্ডে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে বিবেচিত রেনে জেলওয়েগার একসময় বিশ্বের সবচেয়ে উচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রী ছিলেন। ১৯৯২ সালে তার অভিনয়জীবনের শুরু। প্রথম দিকে স্বল্প বাজেটের ছবিতে অভিনয় করতেন। ছোট ও বড় পর্দা দু জায়গাতেই তার বিচরণ ছিল। এভাবেই নিজেকে পরিচিত ও ব্যস্ত করে তোলার পাশাপাশি একজন অভিনেত্রী হিসেবে সক্ষম ও যোগ্য করে তোলাটাই ছিল তার লক্ষ্য। সেই সময়ে রেনিকে ‘রিয়েলিটি বাইটস’, ‘অ্যাম্পায়ার রেকর্ডস’, ‘জেরি মারগুইরি’, ‘ডিসিভার’, ‘ওয়ান ট্রু থিং’, ‘দ্য ব্যাচেলর’ প্রভৃতি সিনেমায় দেখা গেলেও ‘জেরি মারগুইরি’ ছবিতে প্রথম সবার নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছিলেন। যেখানে তাকে টম ক্রুজের বিপরীতে একজন সিঙ্গেল মাদারের চরিত্রে দেখা গিয়েছিল। ধর্মীয় আবেগ সম্বলিত সিনেমা ‘অ্যা প্রাইস এভোব রুবিস’-এ তাকে ভিন্নধর্মী একটি চরিত্রে দেখা যায়। যা তার অভিনয় সত্তাকে অনেকটাই উজ্জ্বল ও মহিমামণ্ডিত করেছিল। হলিউডের নামীদামি তারকা অভিনেতাদের অধিকাংশের বিপরীতে অভিনয়ের সুযোগ হয়েছে তার। যেমন ‘ওয়ান ট্রু থিং’ ছবিতে তার সঙ্গে ছিলেন উইলিয়াম হার্ট ও মেরিল স্ট্রিপের মতো অভিনয়শিল্পীরা। এছাড়া ক্রিস ওডোনিলের সঙ্গে ‘দ্য ব্যাচেলর’ এবং জিম ক্যারির সঙ্গে ‘মি, মাইসেলফ অ্যান্ড আইরিন’ ছবিগুলোতে মজাদার অভিনয়ের সুবাদে অগণিত দর্শকের মন জয় করে নিয়েছিলেন রেনি জেলওয়েগার। মরগ্যান ফ্রিম্যান, হিউগ্র্যান্ট, কলিন ফার্থ, মিশেল পিফার, ক্যাথরিনা জেটা জোনস, রিচার্ড গ্যারে, রাসেল ক্রো, পল জিয়াম্যাটি প্রমুখ অভিনেতা-অভিনেত্রীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন বহু ছবিতে। যেখানে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন পর্দায়। ‘ব্রিজিট’, ‘জোনস ডায়েরি’, ‘হোয়াইট’, ‘অলিয়েন্ডার’, ‘সিকাগো’, ‘ডাউন উইথ লাভ’, ‘গোল্ড মাউন্টেন’, ‘সিন্ডারেলা ম্যান’, ‘মিস পটার’, ‘লেদারহেডস’, ‘অ্যাপোলোসা’, ‘নিউ ইন টাউন’, ‘মনস্টার ভার্সেস অ্যালিয়েনস’, ‘মাই ওয়ান অ্যান্ড অনলি’, ‘কেস থার্টি নাইন’, ‘মাই ওন লাভ সং’ ছবিগুলোয় দাপুটে পর্দা উপস্থিতির পর অনেকগুলো বছর রুপালি পর্দা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন বিখ্যাত এই হলিউডি অভিনেত্রী। সুদীর্ঘ ছয় বছর নিজেকে অনেকটা আড়ালে রেখেছিলেন তিনি। ২০১৬ সালে রেনির প্রত্যাবর্তন ঘটে বেশ নাটকীয়ভাবেই। ‘দ্য হোল ট্রুথ’ ও ‘ব্রিজিট জোনস বেবি’ ছবিদুটিতে তার অসাধারণ অভিনয় দর্শকদের হূদয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে। ২০১৭ সালে তাকে ‘সেইম কাইন্ড অব ডিফারেন্ট অ্যাজ মি’ ছবিতে দেখা যায়। পরের বছর, অর্থাত্ ২০১৮-তে ‘হিয়ার অ্যান্ড নাউ’ ছবিতে টেসা চরিত্রে নিজেকে আবারও সেরা হিসেবে প্রমাণ করেছেন। সাম্প্রতিক ছবি ‘জুডি’ রেনি জেলওয়েগারকে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন চলচ্চিত্র বোদ্ধা, দর্শক ও সমালোচক মহল। এক সময়ে তুমুল ব্যস্ত ছিলেন অভিনয়ে, এক চরিত্র থেকে আরেক চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নিতে বেশি সময় লাগেনি তার। কিন্তু এখন বয়স বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে অনেকটাই সংবরণ করেছেন। ‘আমি সেইসব দিনের তুমুল ব্যস্ততার কথা ভাবতে পারি না এখন। কিভাবে যে সম্ভব করেছিলাম তখনকার অভিনীত চরিত্রগুলো, ভাবতে গিয়ে অবাক হয়ে যাই,’ সাম্প্রতিক এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন।