মুহাম্মদ দিদারুল আলম
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
গিটার নিয়ে পাগলামির অনেক কথা শুরুর দিকে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমকে বলেছিলেন কিংবদন্তী আইয়ুব বাচ্চু। তিনি নিজেকে, ‘ভাড়াখাটা গিটারের ভাড়াখাটা প্রেমিক’ ভাবতেন। কিন্তু প্রায় ২০ বছর আগে নিউইয়র্কের গিটার সেন্টারের ম্যানেজারকে দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘যে গিটারের জন্য দেশ অপমানিত হয়, সেই গিটার আইয়ুব বাচ্চু দ্বিতীয়বার বাজায় না।’ গিটার নিয়ে এমন অস্বস্তিকর ঘটনা অনেকবারই ঘটিয়েছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। তার নিজের ভাষায়, ‘গান নয়, গিটার আমাকে ঘরছাড়া করেছিল। গিটারের জন্যই সংগীতযুদ্ধে নেমেছিলাম। সত্তরের দশকে আমি ভাড়ায় গিটার বাজাতে যেতাম। গিটারটাও ভাড়া নিয়ে যেতাম। সেসময় ডিসকো কোম্পানির একটি গিটার আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে ৩০ টাকা দিন ভাড়ায় নিয়ে গিয়ে শো করতাম। ভাড়া হিসেবে ৩০ টাকা দেওয়ার পর আরো ৫০ থেকে ৬০ টাকা থেকে যেত। এটা দিয়েই দিন চালাতাম। এখন কিন্তু আমার নিজের দেশি-বিদেশি ৪০টি গিটার আছে। কিন্তু সেই ভাড়াখাটা গিটারের দিনগুলোর কথা আজো জীবন্ত হয়ে আছে আমার মনে।’—এভাবেই গিটারকে ভালোবেসে প্রকাশ করে গেছেন দেশের প্রতি ভালোবাসা। আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর ১ মাস আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সাঁঝবেলায় তার ‘রূপালি গিটার’ স্মারক উন্মোচন করেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। বাংলাদেশে এই প্রথম স্থাপনার মাধ্যমে একজন শিল্পীকে স্মরণের ইতিহাস রচিত হলো। গতবছর ১৮ অক্টোবর প্রয়াত হন রূপালি গিটারের কিংবদন্তী ব্যান্ডশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু।
সবাই চলে যাবো, রয়ে যাবে স্মৃতি। রকস্টার আইয়ুব বাচ্চুও চলে গেছেন, কিন্তু রেখে গেছেন কালজয়ী গান। চট্টগ্রামজুড়ে রয়েছে তার অজস্র স্মৃতি। সেই স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য চট্টগ্রাম নগরীর প্রবর্তক মোড়ের এই রূপালি গিটারের ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া প্রর্বতক মোড়ের নতুন নামকরণ করা হয়েছে আইয়ুব বাচ্চু চত্ত্বর। শিল্পী বাচ্চুর রেখে যাওয়া সেই রূপালি গিটার যেন ফিরে এলো আবার তার জন্মভিটা চট্টগ্রামে। তিনি গেয়েছিলেন, ‘এই রূপালি গিটার ফেলে/ একদিন চলে যাবো দূরে, বহুদূরে/ সেদিন চোখে অশ্রু তুমি রেখো গোপন করে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, ‘আইয়ুব বাচ্চু শুধু চট্টগ্রামের নয়, দেশের সম্পদ। গানের সুরে একটা প্রজন্মকে তিনি মাতিয়ে রেখেছিলেন। তার স্মৃতি রক্ষার্থে এই রূপালি গিটার একটা উদ্যোগ মাত্র। তিনি তার গানেই বেঁচে থাকবেন আজীবন।’
অনুষ্ঠানে আসা সোলস সদস্য সুব্রত বড়ুয়া রনি বলেন, ‘তিনি একজন গিটারিস্ট, টিউনার ও সিঙ্গার ছিলেন। তরুণরা যে তাকে ফলো করে, সেই ফলো করার জিনিস তিনি তরুণদের দিয়ে গেছেন। ১১ বছর তার সঙ্গে কাজ করেছি। একটা অন্যরকম আবেগ কাজ করছে।’ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ইরফান ছট্টু, আবদুল হালিম লোহানী, রেজাউল করিম, শামসুদ্দোহা প্রমুখর্।
