‘পরিবর্তন-এ যে পারিশ্রমিক তা রাষ্ট্রীয় শিল্পী সম্মানী কাঠামো অনুযায়ী নগণ্য’

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৫৪

বিনোদন প্রতিবেদক

 

এদেশে বিনোদনের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্লাটফর্ম তৈরি করেছেন হানিফ সংকেত। তার জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমে গত দুই যুগ ধরে দৃশ্য মাধ্যমের সব আয়োজনেই দর্শকদের সেরা অনুষ্ঠানের নাম ইত্যাদি। ইত্যাদির পথ অনুসরণ করেই পরবর্তী সময়ে এদেশের ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে হাতেগোনা যে দু-তিনটি অনুষ্ঠান দর্শকদের মনে দীর্ঘদিন ধরে মুগ্ধতায় আটকে থাকবে তার ভেতরে অন্যতম আনজাম মাসুদের ‘আজকাল’ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানটি। তবে আনজাম মাসুদ গত ৩ বছরের বেশি সময় ধরে বিটিভিতে আরো একটি অনুষ্ঠান নিয়ে চ্যানেলটিকে আলোচনার তালিকায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন। সেই অনুষ্ঠানের নাম ‘পরিবর্তন’।

কিন্তু ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের বিশাল ব্যাপ্তি থাকায় এর বাজেট সঙ্কুলান অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়নি। এরপরও শত প্রতিকূলতার ভেতরে একাধিক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান নির্মাণ করেছেন আনজাম মাসুদ। দর্শক চাহিদার ক্ষেত্রেও তার প্রতিটি অনুষ্ঠান ছিল জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

সর্বশেষ পরিবর্তন নামের ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানটি বিটিভির দর্শক-চাহিদার তুঙ্গে ছিল বলা যায়। এদিকে পরিবর্তন বিটিভির নিজস্ব অনুষ্ঠান হওয়ায় এখানে বাজেট সীমিত। এ সীমিত বাজেট দিয়েও আনজাম মাসুদ অনুষ্ঠানটিকে বেশ দর্শকপ্রিয় করে তুলেছিলেন। জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানটির ৩৭টি পর্ব করার পর এর নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছেন আনজাম মাসুদ। গত ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠানটির নিয়মিত পর্ব প্রচার হওয়ার কথা থাকলেও সেই শিডিউলে বিটিভিতে অন্য অনুষ্ঠান প্রচার হয়। কারণ ৩৮তম পর্ব তৈরি করেননি এ নির্মাতা ও উপস্থাপক। বিটিভি কর্তৃপক্ষকে তিনি লিখিত জানিয়েছেন, পরিবর্তন নির্মাণ কিংবা উপস্থাপনা করতে তিনি আর ইচ্ছুক নন।

হঠাত্ করে এমন একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে আনজাম মাসুদ বলেন, ‘মিডিয়া আমার নেশা এবং পেশা। এর বাইরে আমি কিছু করি না। অনুষ্ঠান নির্মাণ ও উপস্থাপনা, বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণ, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট—এগুলোই আমার কাজ। পরিবর্তনের একটি পর্ব করতে আমার মাসে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় কেটে যায়। তার বিনিময়ে আমি যে পারিশ্রমিক পাই তা রাষ্ট্রীয় শিল্পী সম্মানী কাঠামো অনুযায়ী খুবই নগণ্য। তারপরও ৩৭ পর্ব তৈরি করতে গিয়ে কমপক্ষে ৮ বার বাজেট কমানো হয়েছে। জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠানটি নির্মাণ করা হয়। প্রতি পর্বে শিল্পী-কলাকুশলীদের অনুরোধ করে করে কাজটি করি। নিজের কাছে খারাপ লাগে বারবার অনুরোধ করতে। তাই যেখানে বাংলাদেশ টেলিভিশনে অনুষ্ঠান করার জন্য আবেদনপত্রের স্তুপ জমা রয়েছে, সেখানে আমি নিজ থেকে চিঠি দিয়ে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছি। যদিও মহাপরিচালক মহোদয় আমার চিঠি গ্রহণ করেননি, কিন্তু আমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি অনুষ্ঠানটি আমি আর করবো না। যার ফলে এ মাসে অনুষ্ঠানটি প্রচার হয়নি।’

এদিকে একাধিকবার বাজেট বাড়ানোর ব্যাপারে কথা বললেও আনজাম মাসুদ তার সুফল পাননি বলে জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠানের বাজেট বাড়াতে বলবো কী উল্টো ৮ বার কমানো হয়েছে। মানসম্মত অনুষ্ঠান নির্মাণে বিটিভি যদি বাজেট না বাড়ায়, যোগ্য শিল্পীকে সম্মানী না দেয়, তবে যত পরিকল্পনাই করুক চ্যানেলটি কোনোদিন সেই অর্থে দর্শকপ্রিয়তা পাবে না। তবে আমার ব্যক্তি কারো প্রতি কোনো অভিযোগ নেই। আমি চাই এর কাঠামোগত উন্নয়ন।’ পরিবর্তনের পর নতুন কোনো অনুষ্ঠান শুরু করছেন কি-না জানতে চাইলে আনজাম মাসুদ বলেন, ‘আসলে জীবনের বেশিরভাগ সময়ই তো এই ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান নির্মাণে ব্যয় করলাম। এখনো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গেলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দর্শকরা আমার ম্যাগাজিনের কথা বলেন। কেউ অভিনয় করতে চান। এ সবই আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার বলে মনে করি।’