প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর সুপ্রিয় পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, ইচ্ছা থাকিলে উপায় হয় সংগে চেষ্টাও যুক্ত করতে হয়। ক্রমেই পরীক্ষা নিকটে আসছে। পড়ার টেবিলটা গুছিয়ে সকাল সন্ধ্যায় পড়তে বস। একটু একটু করে জানো আনন্দ পাবে।
বাংলাদেশের নদ-নদী
সূচনা:বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। ছোট বড় অনেক নদী জালের মত জড়িয়ে আছে এদেশে। আর এই নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল এ জনপদ। এ পথ ধরেই নদী ও জন্মভূমির পরিচয়ে একাত্ম বন্ধনে শ্লোগান ওঠে— ‘তোমার আমার ঠিকানা
পদ্মা মেঘনা যমুনা।’
নদ-নদীর উত্পত্তি : পাহাড়, পর্বত, হ্রদ নদ-নদীর উত্পত্তি স্থল। বেশির ভাগ নদীর উত্পত্তিস্থল ভারতে। এদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদী বা জলরাশি মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়েছে।
নদীর দৃশ্য: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে নদীর মিতালী অপরূপ করে তুলেছে। বর্ষায় ভরা নদী রূপের ঝংকার বহিয়ে দেয়। নদীকুলে সুর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য অপরূপ। নদীর তীরে সাদা কাশফুল, পালতোলা নৌকা, স্রোতের কলধ্বনি হূদয়ে তোলে আলোড়ন।
নদ-নদীর পরিচয়: বর্তমান প্রায় ২৫০টি নদ-নদীর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, কর্ণফুলী, ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যা, সুরমা, বুড়িগঙ্গা, তিস্তা উল্লেখযোগ্য।
উপকারিতা: কৃষিতে, যোগাযোগে, বিদ্যুত্ উত্পাদনে, পুষ্টির চাহিদা পুরণে মত্স্য উত্পাদনে নদীর উপকারিতা অপরিসীম। নদী দিয়ে জীবন বাঁচায় ধীবর গোষ্ঠী, পাটনী। মরুময়তা রক্ষায় নদীর ভূমিকা ব্যাপক।
অপকারিতা: নদীর বন্যা ক্ষতির কারণ হয়ে ওঠে কখনও কখনও। দুকুল ভেঙ্গে নিঃস্ব করে দেয় মানুষকে। রাস্তাঘাট, বাজার, প্রতিষ্ঠান, জমির ক্ষেত ভেঙ্গে দেয়। মানুষ ও প্রাণী সম্পদের মৃত্যুর কারণ হয়ে ওঠে। বন্যায় বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে।
নদী ও জীবন
নদীর তীরেই এ জনপদ গড়ে উঠেছিল। তাইতো জীবন যাপন হয়ে ওঠে নদী কেন্দ্রীক। এই নদীকে ঘিরেই বন্দর, নগর, হাট, বাজার, শহর গড়ে উঠতে দেখা যায়। তাইতো নদীর সাথে এদেশের মানুষের গভীর মিতালী।
উপসংহার : আমাদের সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক জীবনে নদীগুলো রেখে চলেছে অমূল্য অবদান।
