‘৮০ ভাগ সফলতা এসেছে’

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:০৪

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অম্লমধুর অভিজ্ঞতা দিয়ে সেপ্টেম্বর মাস পার করল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। মাসের শুরুটা হয়েছিল আফগানিস্তানের কাছে টেস্টে হার দিয়ে। ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজের শুরুটা ছিল বিপর্যয়মুখর। জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ৬০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশ জয় পেয়েছিল আফিফ হোসেন ধ্রুবর দুরন্ত ব্যাটিংয়ে। পরের ম্যাচেই আবার আফগানদের ছোবলে হারের হতাশায় পুড়তে হয় সাকিব আল হাসানের দলকে।

চট্টগ্রামে ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে জয় নিয়ে মুখরক্ষা হয় বাংলাদেশের। ফাইনালে ওঠার সঙ্গে ফিরতি লড়াইয়ে আফগানদের হারাতে পেরে স্বস্তি ফিরেছিল টাইগার শিবিরে। ট্রফি জয়ের মঞ্চ তথা ফাইনালটা বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, টেস্টে আফগানদের কাছে হারটা ছিল হতাশাজনক। তবে ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট তিনি।

এই হোম সিরিজে তামিম ইকবালবিহীন বাংলাদেশের টপ অর্ডার ছিল পুরোপুরি ব্যর্থ। টেস্টে ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন ছিল লক্ষণীয়। টি-২০তে রানের খরায় থাকা সৌম্য সরকার দুই ম্যাচ পরই বাদ পড়েছিলেন। লিটন দাসও জ্বলে উঠতে পারেননি। তরুণ নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটিং সবার মধ্যে এই উপলব্ধি এনে দিয়েছে যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য এখনো প্রস্তুত নন তিনি। আর ব্যাটিংয়ের ধরন অনুযায়ী টি-২০ ফরম্যাটের সঙ্গে বেমানানই তার ব্যাটিং।

এর মধ্যে অধিনায়ক সাকিব, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদদের ব্যাটে ভরসার জোগান ছিল। সিরিজের সেরা ৫ ব্যাটসম্যানের তালিকায় আছেন তারা। চার ম্যাচ খেলে মাহমুদউল্লাহ ১২৬, সাকিব ৯৬ রান করেছিলেন। সমানসংখ্যক ম্যাচে মুশফিক ৬৩, লিটন দাস ৬১ রান করেছিলেন।

বোলিংয়ে পেস বোলাররা ভালো করেছেন টি-২০তে। বিশেষ করে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন অসাধারণ বোলিং করেছেন। নতুন বলে উইকেট এনে দেওয়ার কাজটা প্রায় প্রতি ম্যাচেই করেছেন তিনি। চার ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি। দুই ম্যাচ খেলা শফিউল ইসলামও ভালো করেছেন। তিনি পেয়েছেন ৪ উইকেট।  সাকিব-মুস্তাফিজ চার ম্যাচ খেলে ৪ উইকেট নিয়েছেন। তবে মুস্তাফিজের বোলিংটা আশানুরূপ হয়নি। বল হাতে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার।

চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের কাছে টেস্টে হারের প্রসঙ্গে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক গতকাল বলেছেন, ‘টেস্টে ওদের কাছে হারটা হতাশাজনক ছিল। এটা কেউই আশা করেনি। যেমন উইকেট ছিল, তাতে আমাদের আরো ভালো ক্রিকেট খেলা উচিত ছিল। এবং দলটা এরচেয়ে ভালো খেলার সামর্থ্যও রাখে।’

তবে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সে তুষ্ট মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। টি-২০তে ভালো দল না হলেও এই সিরিজে তিনটি ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। গতকাল প্রধান নির্বাচক বলেছেন, ‘টি-২০তে আমরা খারাপ করিনি। চার ম্যাচের তিনটিই জিতেছি। আমি বলব, ভালোই হয়েছে। ৮০ ভাগ সাফল্য এসেছে। একটা দল দাঁড় করাতে হবে। আগামী বছর বিশ্বকাপ আছে।’

আফিফ হোসেন, আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের মতো তরুণেরা খেলেছেন ত্রিদেশীয় সিরিজে। ব্যাটে-বলে আফিফ জানান দিয়েছেন, এই মঞ্চে টিকে থাকতেই এসেছেন তিনি। লেগ স্পিনার বিপ্লব অভিষেকেই নজর কেড়েছেন। পারফরম্যান্স আহামরি না হলেও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা হিসেবে তাকেই ধরা হচ্ছে।

প্রধান নির্বাচক অবশ্য এখন দেশের বাইরে বিরুদ্ধ কন্ডিশনে এসব তরুণকে পরখ করার অপেক্ষায় আছেন। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয় তরুণেরা ভালোই করেছে। এখন আসলে হোমে ও দেশের বাইরে খেলার মাঝে পার্থক্য আছে। ভারত সফরেও আমাদের টি-২০ আছে। সেখানেও এদের দেখতে হবে। বিশ্বকাপের আগে দলটা তৈরি করতে হবে।’