স্পোর্টস রিপোর্টার
বাংলাদেশের বিপক্ষে আরো বেশি ম্যাচ খেলার দাবি রাখিয়ে বাংলাদেশ ছাড়ল আফগানিস্তান ক্রিকেট দল। দলের অধিনায়ক রশিদ খান মনে করেন, দুই দলের মধ্যে আরো লম্বা সিরিজ হওয়া এখন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের দর্শকরা চায় বাংলাদেশের বিপক্ষে বেশি বেশি ম্যাচ। আমি জানি, এখানকার মানুষও তাই চাই। আমি মনে করি আমাদের বড় সিরিজ খেলা উচিত্। মূল দৃষ্টিটা অবশ্যই ওয়ানডে আর টেস্টের দিকে থাকবে। ক্রিকেট বোর্ডগুলোর এই বিষয়টা নিয়ে ভাবা উচিত। টেস্ট সিরিজগুলো হবে তিন ম্যাচের। এর ফলে, আরো বেশি কিছু শেখার ও ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা পাওয়ার সুযোগ আছে। এর ফলে আমাদের দুই দলের ৫০ ওভারের ক্রিকেট ও টেস্ট ক্রিকেটেও উন্নতি আসবে।’
শুধু বাংলাদেশ নয়, বড় দলগুলোর বিপক্ষেও আরো বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ খুঁজছে আফগানিস্তান। রশিদ খান বলেন, ‘আমরা গেল পাঁচ বছরে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের মত দলগুলোর বিপক্ষে মাত্র দুবার করে খেলার সুযোগ পেয়েছি। এর জন্য ওদের শক্তিমত্তা ও দুর্বলতার জায়গাগুলো আসলে বোঝাই যায় না। এক্ষেত্রে আমাদের সামনে বড়ো উদাহরণ হল বাংলাদেশ। ওরা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অনেক ম্যাচ খেলেছে। বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওরাই সবচেয়ে ভালো খেলেছে। তাই, যদি আপনি বড়ো শক্তি হতে চান, তাহলে বড়ো দলগুলোর বিপক্ষে নিয়মিত খেলতে হবে, চার বছরে একবার নয়। এসব দলে নিয়মিত ১৪০-এর ওপর গতিতে বল করে এমন ফাস্ট বোলার আছে। আর আমাদের খেলতে হয় স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, যাদের ১৪০-এর ওপর বল করে এমন কেউ নেই বললেই চলে।’
রশিদ খান বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলে বেড়ান। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি চলে গেছেন ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) খেলতে। ফলে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণটা সহজেই বোধগম্য। যদিও, তিনি অল্প সময়ের মধ্যে টেস্টেও নিজেকে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছেন।
রহস্যটা কী? রশিদ বললেন দুই কিংবদন্তি স্পিনার শেন ওয়ার্ন ও মুত্তিয়া মুরালিধরনের কথা। তিনি বলেন, ‘আমি মুরালিধরন ও ওয়ার্নের সঙ্গে একই বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। দুজনই আমাকে অভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। নিজের বোলিং স্টাইলে পরিবর্তন না আনতে বলেছেন তারা। আগ্রাসী মানসিকতাতে বদল না আনার কথা বলেছেন। আমি যেমন, তেমনই থাকতে বলেছেন। সব পরিস্থিতিতে শান্ত ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পরামর্শই দিয়েছেন দুই কিংবদন্তি। তারা আমাকে বোলিংয়ের গতিতে পরিবর্তন বা ভ্যারিয়েশন আনার চেষ্টা না করার পরামর্শ দিয়েছেন। পক্ষান্তরে সঠিক লাইন ও লেন্থে বল ফেলার দিকে বেশি মনোযোগ দিতে বলেছেন তারা। আমিও মনে করি, বোলিংয়ের ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমার সাফল্যের নেপথ্য কারণ হয়তো এটিই।’ টেস্ট ক্রিকেটে রশিদ ধৈর্য ধরার পক্ষে মতো দিলেন। বললেন, ‘টেস্টে এমনও সময় আসতে পারে ২৫ ওভার বল করেও কোনো উইকেটের দেখা মিলবে না। আবার এমনও হতে পারে এক ওভারে ২-৩ উইকেট পাওয়া যাবে। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে সবসময় এ কথাটাই আমার মাথায় ছিল। ম্যাচে আমি নিজের ওপর বেশি চাপ নিতে চাইনি। ধৈর্য ধরে বোলিং করার চেষ্টা করেছি।’
