ফেনীর লালপোলে পুরাতন মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:২৭

হাবিবুর রহমান খান, ফেনী প্রতিনিধি

ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন মহাসড়কের ফেনী অংশের লালপোল এলাকায় সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে নিয়মিত ঘটছে দুর্ঘটনা। স্থানটি পরিণত হয়েছে একটি দুর্ঘটনার ফাঁদে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকটি সোজা করার জন্য দাবি জানিয়েছে স্থানীয় ব্যক্তি ও সংগঠন।

পরিবহন চালকরা জানান, পুরাতন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে ফেনীর দক্ষিণাঞ্চলে প্রতিদিন ২০-৩০ হাজার তিন চাকার অটোরিক্সাসহ কয়েক হাজার বাস-ট্রাক চলাচল করে। সিএনজিচালক আবদুল কাদের, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সিএনজি স্ট্যান্ডের লাইনম্যান আবদুল কুদ্দুস ইত্তেফাককে বলেন, বর্তমান বাঁকা রাস্তাটি পূর্বে সোজা ছিল। কিন্তু সড়ক বিভাগ সোজা রাস্তাটিকে বাঁকা করে মহাসড়কের ফোর লেনের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেয়। চালকরা জানান, এই পর্যন্ত বাঁকটির কারণে এই এলাকায় ১০০ বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকটিতে শৃঙ্খলা রক্ষা ও ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে সিএনজিমালিক সমিতির পক্ষ থেকে প্রতিদিন ৫০০ টাকা বেতনে দুই জন লোক নিয়োগ করা হয়েছে বলে যানবাহন চালকরা জানান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরাতন রাস্তাটির সোজা অংশটুকু বর্তমান স্থানীয় কিছু ভূমিদস্যুর দখলে চলে গেছে। সেখানে বর্তমানে কাঁচা-পাকা ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ও ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদসহ অভিযোগ করে বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন মহাসড়কটি একসময় সোজা ছিল। বর্তমানে ফোর লেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক নির্মিত হলে পুরাতন মহাসড়কটি এর সঙ্গে লালপোল এলাকায় মিলিত হয়েছিল। পুরাতন রাস্তাটি যদি আগের মতো সোজা করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চার লেনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয় তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে বলে তারা মনে করেন।

এ ব্যাপারে ফেনী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হালিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি ফেনীতে এসেছেন এক মাসও হয়নি। তিনি রাস্তাগুলো চিনেন না। তিনি উপসহকারী প্রকৌশলী মাকসুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বলেন।

উপসহকারী প্রকৌশলী মাকসুদুর রহমানকে ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন মহাসড়কের সোজা রাস্তাটি কি কারণে বাঁকা করা হলো প্রশ্ন করা হলে তিনি ইত্তেফাককে বলেন, ভূমিদস্যুদের দখলকৃত রাস্তাটি আদৌ সড়ক বিভাগের কি না তা সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করবেন এবং সড়ক বিভাগের জায়গা থেকে অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য উচ্ছেদ অভিযানের নথি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রদান করা আছে। পুরাতন মহাসড়কের বেদখল অংশটি যদি সড়ক বিভাগের হয়ে থাকে, তাহলে দখলদার উচ্ছেদ করে সড়কটি সোজা করে মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।