ধারণার চেয়েও সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, গলছে বরফ। এসব ঘটছে মানবসৃষ্ট কারণে। এ কারণে জীবকূল বাধ্য হয়ে তাদের বাসস্থান ত্যাগ করছে। কার্বন নি:সরণের পরিমাণ এভাবে বাড়তে থাকলে এবং অ্যান্টার্কটিকার বরফ গললে ২১০০ সাল নাগাদ সমুদ্রপ্রষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট পর্যন্ত বাড়বে। এতে বিশ্বের যে ৬৮০ মিলিয়নের বেশি মানুষ সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে বাস করছেন তারা প্রতিবছর বন্যায় আক্রান্ত হবে। ২০৫০ সাল নাগাদ যা পূর্বে শতাব্দীতে একবারই ঘটতো। জাতিসংঘের বিজ্ঞানীদের একটি দল এই সতর্কবার্তা জারি করেছে। বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ব্লু প্ল্যানেট চরম বিপদের মুখে আছে। খবর বিবিসির
কী পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা এবং এর প্রভাব
বিজ্ঞানীরা বলেছেন, পৃথিবী এই অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে পারে যদি মানুষ কার্বন নি:সরণ ব্যাপক হারে হ্রাসে ভূমিকা রাখতে পারে। গত ১২ মাসে ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) এর এই তৃতীয় প্রতিবেদনে মূলত জলবায়ু পরিবর্তন এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্র এবং বরফাবৃত অঞ্চলে কী প্রভাব পড়বে সেই বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আর এই রিপোর্ট ভয়াবহ এবং হুমকির। সংক্ষেপে বলা যায়, বরফ দ্রুত গলছে। এর প্রভাব বিশ্বে পড়ছে। গবেষণার সমন্বয়ক জ্যঁ পিয়েরে গাত্তুসো বলেন, ব্লু প্ল্যানেট এখন মারাত্মক বিপদে আছে। বিভিন্ন দিক থেকে বিভিন্নভাবে বিশ্বকে হুমকিতে ফেলছে। এটা আমাদের দোষে ঘটছে। ১৯৭০ সালের পর থেকে বিশ্বের উষ্ণায়ন থামছে না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মত্স্য প্রজনন ক্ষেত্রগুলো। সমুদ্র তীরবর্তী বিশ্বের অনেক শহর নিয়মিত বন্যায় প্লাবিত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বিশ্বের ৩৬টি দেশের ১০০ জনেরও বেশি বিজ্ঞানী গবেষণায় কাজ করেছেন। আইপিসিসি’র ভাইস চেয়ারম্যান কো বেরেট বলেন, এই প্রতিবেদনটি স্বতন্ত্র। কারণ এবারই প্রথম জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে আনা হয়েছে। হিমালয়ের সর্বোচ্চ চূড়া থেকে সমুদ্রের তলদেশ পর্যন্ত সব জায়গাতেই পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানো হয়েছে।
