মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ডা. মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইনে যা হয়েছে, তা গণহত্যা। সেখানে পদ্ধতিগত ধর্ষণ এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে। এই সংকট এখন আর মিয়ানমার বা বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই কিছু একটা করতে হবে। রোহিঙ্গা সংকটের অবসান এখনই হওয়া উচিত। নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ১১ নম্বর সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন ও ওআইসি সচিবালয় আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট:উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক পার্শ্ব-সভায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন।
মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, রাখাইনে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানো হয়েছে। মিয়ানমার বলছে, সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলায় অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, সেখানে গণহত্যা হয়েছে। অসংখ্য মানুষ অবর্ণনীয় নৃশংসতার শিকার হয়েছে। এই নির্যাতনের মুখে রোহিঙ্গারা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। যাদের অধিকাংশ আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশের কক্সবাজারে। সেখানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় আমরা বাংলাদেশকে সাধুবাদ জানাই। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা মানবপাচার এবং যৌন দাসত্বের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
জাতিসংঘের নীরবতা কানে তালা লাগার মতো। সংকট সমাধান ও অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে নিরাপত্তা পরিষদের বাইরে অন্যদেরও তাদের দায়িত্ব অবশ্যই পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, মিয়ানমারের পরিস্থিতি মোটেও ভালো না। রাখাইনে থেকে যাওয়া রোহিঙ্গারা অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত। তাদের স্থান হয়েছে ক্যাম্পে। যখন বিশ্ব এসব শিবিরগুলোর সঙ্গে অতীতের কুখ্যাত বন্দি শিবিরগুলোর তুলনা করে তখন মিয়ানমার সরকার তা অস্বীকার করে। কিন্তু তারা সেখানে জাতিসংঘের প্রতিনিধি ও মানবাধিকার কর্মীদের প্রবেশ করতে দেয়নি। যদি মিয়ানমারের লুকানোর কিছু না থাকে, তবে সেখানকার পরিস্থিতি দেখাতে এত বাধা কেন?
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ব্যর্থ হওয়ার জন্য মিয়ানমারকে দায়ী করে মাহাথির বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরতে রাজি না হওয়াটাই স্বাভাবিক। এর কারণগুলো স্পষ্ট। কেউ যদি তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বোধ না করে তবে সে ফিরবে না। এজন্য রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়া চাপ অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি পূর্ণ নাগরিকত্ব জরুরি। রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে ওআইসির ইতিবাচক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন মাহাথির।
