মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেছেন, রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গার জন্য বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়ে উদারতা দেখিয়েছে। আন্তর্জাতিক দাতা সম্প্রদায় ও এনজিওগুলো চলমান রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সরকারের সঙ্গে কাজ করছে। এখন রোহিঙ্গাদের স্বতঃপ্রণোদিত, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারকে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। গতকাল বুধবার ফেসবুক লাইভে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ কথা বলেন।
তার এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে সহায়তা করতে ১২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের অতিরিক্ত অনুদানের ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের সহায়তার জন্য নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যয় হবে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০১৭ সালে নতুন করে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৫৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে। এর বাইরে নতুন করে অনুদানের ঘোষণা এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই সহায়তা করতে পেরে গর্বিত। কারণ এর ফলে অনেক জীবন রক্ষা পাবে।
তিনি বলেন, স্বাধীন ও অবাধভাবে কর্মরত এনজিও ও অন্যান্য অংশীদারদের কল্যাণেই কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দাতা সংস্থা রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সক্ষম হচ্ছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সহায়তার দায়িত্ব এককভাবে শুধু বাংলাদেশকে যাতে বহন করতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে তাদের কাজ অত্যাবশ্যকীয়। এই সংগঠনগুলো আমাদের পূর্ণ সহায়তা দাবি করে।
তিনি বলেন, ‘উদারতা, সহমর্মিতা ও মানবিকতা প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি আমার অসীম শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই সংকটে আপনারা যেভাবে সাড়া দিয়েছেন, তা বিশ্বে দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।’
