মানুষের এত নিবিড় আবেগ আগে বুঝিনি!

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:২৬

রাশেদ সীমান্ত। বৈশাখী টিভির বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন তিনি। তবে ছোটপর্দার দর্শকদের কাছে তিনি অভিনেতা হিসেবেই পরিচিত। তবে তিনি এখন পর্যন্ত হাতেগোনা কয়েকটি কাজ করেছেন। এরমধ্যে ‘মধ্যরাতের সেবা’ নাটকটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। সম্প্রতি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি বিনোদন প্রতিদিনের মুখোমুখি হয়েছেন—

আপনি পেশায় অভিনয়শিল্পী নন। তারপরও প্রায়ই নাটকে অভিনয় করছেন। শুরুটা কীভাবে?

অভিনয় আমার পেশা না। পেশা হিসেবে ভবিষ্যতে নেওয়ার চান্স খুবই কম। আমি বৈশাখী টেলিভিশনে কর্মরত আছি। মার্কেটিং ইনচার্জ হিসেবে আমি প্রিভিউ বোর্ডেরও সদস্য। সে কারণে আমাকে অনেক নাটক দেখতে হয়। তারপর নাটকের রিপোর্ট ম্যানেজমেন্টকে জানাতে হয়—ভালো, খারাপ কিংবা আরেকটু ভালো হতে পারতো। তো এই ব্যাপারগুলো আমাদের এই টিভির কর্ণধার টিকু আলম মিলন স্যারের চোখে পড়ে। উনি একদিন (গতবছর) আমাকে ডেকে বলেন যে, তুমি রোজারে ঈদে কাজ করো। তখন আমি বুঝতে পারছি যে, অভিনয়টা কত কঠিন! তো স্যারকে সাহস করে বলতেও পারিনি, করবো না! পরে স্যার আসলে সাহস দিয়েছিলেন করো, না হয় আরেকটা প্রোডাকশন বাজে হবে!

 

কীভাবে নিজেকে তৈরি করেছিলেন?

আমি যেখানে কাজ করি সেখানকার সবাই অনেক ভালো। মঞ্চেরও অনেকে আছেন। তারা বললেন, চালিয়ে যান আপনি পারবেন। আমার প্রথম নাটক ‘যেই লাউ সেই কদু’। ওই নাটকে বৈশাখী টেলিভিশনের অনেকেই কাজ করেছি। একদম পিকনিকের মতো করে কাজটা করেছি। নাটকটি যখন প্রচার হলো, দর্শকরা বেশ ভালোভাবে নিয়েছিলেন, আমরা চিন্তাও করিনি এতটা। এই যে দর্শকদের ভালোবাসা, আত্মবিশ্বাস, এটাই আসলে আরেকটু সামনে এগিয়ে যেতে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।

 

ছোটবেলা থেকে অভিনয়ের প্রতি ভালোলাগা ছিল কী?

ছোটবেলা থেকেই প্রচুর নাটক দেখতাম। কিছু অভিনেতা আছেন, যাদের একবার সামনে থেকে দেখার খুব শখ ছিল। আমি বিশ্বাস করি, আপনি যদি কোনো কাজকে ভালো না বাসেন তাহলে সেটা করা আপনার জন্য খুবই মুশকিল হয়ে পড়বে।

 

কোন অভিনেতাকে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগতো?

অনেককেই। কিন্তু মোশাররফ ভাইকে আমার এতটাই ভালো লাগতো যে, আমি ওনার অন্ধ ভক্ত ছিলাম। আর পরিচয়টা টেলিভিশনে। উনি আমাকে চিনতেন না, আমি ওনাকে চিনতাম! এত ভ্যারাইটি ওনার মাঝে, এত ন্যাচরাল খুবই কম অভিনেতার মধ্যেই আমি দেখেছি।

 

‘মধ্যরাতের সেবা’ নাটকের মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলেন। এই নাটকে অভিনয় করতে গিয়ে কী মনে হয়েছে আপনি জীবনের সেরা একটি কাজ করতে যাচ্ছেন?

এই নাটকে কাজ করতে গিয়ে আমি কখনো মনে করিনি আমি জনপ্রিয় হবো। কিন্তু নাটকে কাজ করতে গিয়ে বুঝেছি ভিন্ন একটি গল্পে কাজ করছি। দর্শকরা নাটকটি গ্রহণ করবেন।

 

নাটকটির যখন শুটিং করছিলেন তখন কী ভেবেছিলেন এতটা ভাইরাল হবে?

আমরা যখন শেষ দৃশ্যটা করি তখন রাত ৩টা। সেসময় এসব চিন্তাই করিনি। আমি শুধু আমার অভিনয়টুকু করেছি। আমার কাজটুকু আমি সর্বোচ্চ সততার সঙ্গে করেছি। অভিনয় যে মানুষকে এত গভীরভাবে ছুঁয়ে যাবে তা কে ভেবেছে? মানুষের মন্তব্য আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। মানুষের এত নিবিড় আবেগ, এত কমিটমেন্ট আমার নিজের চোখেও জল এনে দিয়েছিল।

 

অভিনয় নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

দর্শকরা আমাকে অনেক দিয়েছেন। এখন তাদের আমার দেওয়ার পালা। ভালো কাজ করে দর্শকদের কিছু দিতে চাই। তাই গতানুগতিক কাজ করবো না।  ভালো গল্পের চরিত্রে কাজ করতে চাই। আমি দর্শকদের মানসম্মত কাজ উপহার দিতে চাই।