শিবগঞ্জে বন্যায় তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির মাষকলাই

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৫০

হঠাত্ শিবগঞ্জের পদ্মা ও পাগলা নদীর পানি বন্যার কারণে বেড়ে যাওয়ায় ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় কয়েক হাজার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অন্যদিকে পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর জমির মাষকলাই। এতে কৃষকরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার মনাকষা, দুর্লভপুর, পাকা, উজিরপুর, ছত্রাজিতপুর ও ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ১৫/২০ হাজার মানুষ। তলিয়ে গেছে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও।

উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের পারচৌকা গ্রামের কৃষক জেম আলি জানান, আমার সাত বিঘা জমিতে মাষকলাই বপন করেছিলাম। আকস্মিক বন্যায় সবই তলিয়ে গেছে। দুর্লভপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের হুমায়ন, হাসানপুরের হাসান আলিসহ আরো অনেকেই জানান, তাদের মাষকলাই খেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

দুর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজিব রাজু বলেন, আকস্মিক বন্যায় দুর্লভপুর ইউনিয়নের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। কয়েক দিন আগে জগনাথপুর গ্রামের এক শিশু বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। দিয়াড় এলাকার নিম্নাঞ্চলগুলোতে বসবাস করা মানুষগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছে। তিনি আরো জানান, এখনো কোনো সাহায্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।

শিবগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা আমিনুজ্জামান বলেন, বন্যায় উপজেলার ছয় ইউনিয়নের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে যারা মাষকলাই বপন করেছিল তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এ মৌসুমে শিবগঞ্জে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে মাষকলাই বপন করা হয়েছিল। তার মধ্যে প্রায় আড়াই থেকে ৩  হাজার হেক্টর জমির মাষকলাই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে  সাহায্য করা হবে। 

শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, উপজেলার ছয় ইউনিয়নের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের একটি তালিকা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সহিদুল ইসলাম জানান, পদ্মা ও পাগলা নদীতে গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৭ থেকে ১০ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। বড়ো ধরনের বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই এবং কয়েকদিনের মধ্যে পানি কমে যাবে।