পটুয়াখালী উপজেলা সদর থেকে খাটাশিয়া পর্যন্ত ইউনিয়ন গ্রোথ সেন্টার সংযোগ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ২৫ কিলোমিটার এই সড়কের ১৪ কিলোমিটারের অধিকাংশ স্থানের পিচ ঢালাই উঠে গেছে। অনেক স্থানের নিচের ইটের হেরিংবনেরও অস্তিত্ব নেই। কোথাও কোথাও মনে হয় রাস্তা নয়তো চষা খেত। এ অবস্থায় উপজেলার চার ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ চলাচলে পোহাচ্ছে চরম ভোগান্তি।
পল্লি সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন-১৬ প্রকল্পের আওতায় এলজিইডি পটুয়াখালীর উপজেলা সদর থেকে ‘আয়লা, বোতলবুনিয়া ও খাটাশিয়া গ্রোথ সেন্টার’ হয়ে খাটাশিয়া পর্যন্ত ২৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করে। বিটুমিন কার্পেটিং এই সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০০ সালে এবং শেষ হয় ২০০৫ সালে। সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয় সাড়ে ৪ কোটি টাকা। এই সড়কটি উপজেলা সদরের সঙ্গে চারটি ইউনিয়নের সরাসরি সংযোগ সড়ক। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে:কালিকাপুর ইউনিয়নের হেতালিয়া বাঁধ ঘাট থেকে শুরু হয়ে ছোট বিঘাই ইউনিয়নের বোতলবুনিয়া-মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের আয়লা হয়ে বড়ো বিঘাই ইউনিয়নের খাটাশিয়া এলাকায় গিয়ে শেষ হয়েছে এই সড়ক।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থান ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চারটি ইউনিয়নের ব্যস্ততম সড়ক এটি। তবে কোথাও কোথাও সড়কের ওপরের কার্পেটিং উঠে ইট সুরকি বেরিয়ে রয়েছে। আবার কোথাও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। আবার কোথাও সড়কের ওপরের পিচ ঢালাই, ইটের সুরকি উঠে গিয়ে কাদামাটি থেকে ইট বেরিয়ে রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানের ১৪ কিলোমিটারের এই অবস্থা। প্রতিদিনই এই সড়ক দিয়ে চার ইউনিয়নের মানুষ রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের হালকা ও ভারী যান চলাচল করলেও এখন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এছাড়াও পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার আমড়াগাছিয়া ও কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের লোকজন জেলা সদরে দ্রুত ও সহজ যোগাযোগে এই সড়ক ব্যবহার করে আসছে। এতে করে তাদের সময় ও অর্থ ব্যয় দুটোই অনেক কমে যাচ্ছে।
ছোটো বিঘাই ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলতাফ হাওলাদার বলেন, তাদের এলাকার সড়কই বেশি খানাখন্দে ভরা। বাঁশতলা এলাকার সড়কের ওপরের পিচ, ইটের সুরকি উঠে গেছে। এখন নিচের ইটগুলো এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এই এলাকা অতিক্রম করতে যানবাহনের অবস্থাও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। চারটি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি মজবুত করে নির্মাণের জন্য এলজিইডি বরাবরে আবেদনও করা হয়েছে।
বড়ো বিঘাই ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামান মজনু মোল্লা বলেন, সড়কটি আমার ইউনিয়নের খাটাশিয়া এলাকায় শেষ হয়েছে। চারটি ইউনিয়নের মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। এছাড়াও পায়রা নদীর ওপারে মির্জাগঞ্জের দুটি ইউনিয়ন ও বরগুনা জেলার কয়েকটি গ্রামের লোকজন এই পথে চলাচল করে। তবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে আমাদের চারটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ। বিকল্প সড়কপথ না থাকায় ইউনিয়নের লোকজন বাধ্য হয়ে এখন এই খানাখন্দ সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এই ১৪ কিলোমিটার সড়ক মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। জাইকার অর্থায়নে সড়ক মেরামতের জন্য গত বছর একনেকে বৈঠকে ২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে। এই কাজের অনাপত্তিপত্র পাওয়ার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।
এলজিইডি পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী তীর্থজিত্ রায় বলেন, বাংলাদেশ সরকার (জিওবি) এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর আর্থিক সহায়তায় এলজিইডির বাস্তবায়নে এই সড়ক নির্মাণ কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরামর্শক নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। সামনে শুকনো মৌসুমে নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে বলে তিনি আশা করছেন।
