ইনজুরি, ফিটনেসের ঘাটতির কারণে জাতীয় দলে অনিয়মিত হয়ে পড়েছিলেন শফিউল ইসলাম। তবে ডানহাতি এই পেসারের প্রতি কোচদের নজর সবসময়ই ছিল। মাশরাফি বিন মুর্তজা নেই, রুবেল হোসেনও একাদশে নিয়মিত জায়গা পাচ্ছেন না। মুস্তাফিজুর রহমান নতুন বলে কার্যকর নন। নতুন বলে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের সঙ্গী হিসেবে সীমিত ওভারের ফরম্যাটে শফিউলের ওপর আস্থা রাখেন নির্বাচকরা।
সর্বশেষ দুটি সিরিজে সেই আস্থার প্রতিদানও দিয়েছেন ডানহাতি এই পেসার। বিশ্বকাপের পর শ্রীলঙ্কা সফরে বাংলাদেশ দল ধবলধোলাই হলেও শফিউল বল হাতে সফল ছিলেন। তিন ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। সদ্য সমাপ্ত ত্রিদেশীয় সিরিজে শেষ দুটি ম্যাচে খেলেছেন শফিউল। চার উইকেট নিয়েছেন তিনি। জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে ৩৬ রানে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট।
টানা দুটি সিরিজ দিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন শফিউল। বোলিংয়ে ছন্দও ফিরেছে। এবার জাতীয় দলে জায়গাটা পাকা করতে চান ২৯ বছর বয়সি এই পেসার। গতকাল শফিউল বলেছেন, নিজেকে সবসময় প্রস্তুত রাখবেন। যখনই সুযোগ পাবেন, বল হাতে নিজের সেরাটা দিতে চেষ্টা করবেন।
ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজের পারফরম্যান্স সম্পর্কে গতকাল শফিউল বলেছেন, ‘আমার জন্য ভালোই গেছে ত্রিদেশীয় সিরিজ। হয়তোবা আরো একটু ভালো করার সুযোগ ছিল। এখন সামনে যে সিরিজগুলো আছে সেখানে আরো ভালো করতে চেষ্টা করব।’
প্রায় দুই বছর ওয়ানডে, টি-২০ খেলেছেন শফিউল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরাটা ভালো হয়েছে বলে স্বস্তিতে ডানহাতি এই পেসার। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘জাতীয় দলে যখনই আসি ভালো অবস্থায় থেকেই আসি। হয়তোবা ইনজুরির কারণে এতদিন ম্যাচ খেলতে পারিনি। আমি সবসময় প্রস্তুত হয়েই আসি। নিজেকে তৈরি করেই নিয়ে আসি। জাতীয় দলে এসে যেন আমরা সেরাটা দিতে পারি। এবং দলের জন্য খেলতে পারি।’
তিনি আরো বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই অনেক দিন ভালো একটা সময় এসেছে। আমি টানা দুটি সিরিজ খেলেছি। ওয়ানডে অনেকদিন পরে খেলছি, টি-২০ও অনেকদিন পরে খেলছি। আমার কাছে খুব ভালো লাগছে যে সুন্দরভাবে কামব্যাক করতে পারছি। আরো ভালো করার সুযোগ ছিল। তাহলে আরো ভালো লাগত। দুটি সিরিজই আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
শ্রীলঙ্কা সফর ও ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে শফিউল শেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন ২০১৬ সালের অক্টোবরে, টি-২০ ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। শেষ টেস্টটাও তিনি খেলেছেন ঐ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে।
এবার জাতীয় দলে থিতু হতে চান শফিউল। নিজেকে ফিট রাখার সব চেষ্টা করবেন তিনি। গতকাল বলেছেন, ‘এমন চিন্তা সবসময়ই থাকে। আসলে জাতীয় দলে জায়গাটা পাকা করতে চাই। অবশ্যই চিন্তাভাবনা আছে ভালোভাবে ধরে রাখার। যে রকম আগে করেছিলাম, এমন ভালো কিছু করার, ফিটভাবে যেন খেলতে পারি। এখন টিম ম্যানেজমেন্ট যেভাবে চিন্তা করবে, মানে কখন আমাকে দরকার ডাকবে, আমি নিজেকে প্রস্তুত রাখব। যখন সুযোগ পাব সেরাটা দিতে চেষ্টা করব।’
ত্রিদেশীয় সিরিজে বোলিং করে বোলিং কোচ চার্ল ল্যাঙ্গেভেল্টকেও তুষ্ট করতে পেরেছেন শফিউল-সাইফউদ্দিনরা। কোচের দেওয়া পরিকল্পনায় বোলিং করেছেন তারা।
গতকাল শফিউল বলেছেন, ‘ও (ল্যাঙ্গেভেল্ট) সবসময় একটা কথাই বলেছে, আমাদের কিছু প্ল্যান আছে। আমরা যেন প্ল্যান অনুযায়ী ম্যাচে বোলিং করি। দল হিসেবে যে প্ল্যান করা হয় সেটা যেন বাস্তবায়ন করতে পারি। ব্যাটসম্যান যদি ভালো শট খেলে ফেলে তাতে সমস্যা নেই। আমরা যে প্রস্তুতিটা নেই, সেটা যেন ম্যাচে ব্যবহার করতে পারি। আমিও এটাই চেষ্টা করেছি। আমি যে দুইটা ম্যাচ খেলেছি, কোচ যে প্ল্যান দিয়েছে, আমি, সাইফউদ্দিন, মুস্তাফিজ সবাই ঐ প্ল্যানের ওপরই ছিলাম। এজন্য ও খুশি হয়েছে।’
