ব্রেক্সিট চূড়ান্তে বেসামাল ব্রিটেন

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:১৩

৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিটবিষয়ক সিদ্ধান্ত লইবার চূড়ান্ত তর্কবিতর্ক, আলাপ-আলোচনার মধ্যেই সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আসিয়া মাসাধিককালের জন্য পার্লামেন্টের অধিবেশন বন্ধ করিয়া দিয়াছিলেন ব্রিটেনের অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। বিরোধীদের প্রচণ্ড সমালোচনার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারের খোঁড়া যুক্তি দেখাইয়া প্রায় পার পাইয়া গিয়াছিলেন তিনি; কিন্তু শেষাবধি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার মুখে তরি তীরে ভিড়াইতে পারিলেন না জনসন। মঙ্গলবার ১১ বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্ট জনসনের সিদ্ধান্তকে সর্বসম্মতভাবে বেআইনি ঘোষণা করিয়া দিয়াছেন। সুপ্রিম কোর্টের মতে ব্রেক্সিটের মতো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত লইবার সময়টিতে পার্লামেন্ট বন্ধ করিয়া দেওয়ার পক্ষে ‘ভালো কোনো কারণ দূরে থাকুক’, এমনকি সাধারণ কোনো কারণও খুঁজিয়া পাওয়া যায় নাই। জনসন ও তাহার সমর্থকেরা অবশ্য এই রায়কে পার্লামেন্টের উপরে সুপ্রিম কোর্টের অযাচিত হস্তক্ষেপ হিসাবে চিহ্নিত করিয়াছেন। এইদিকে, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর হইতেই প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি ও তৃতীয় বৃহত্ দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পক্ষ হইতে জনসনের পদত্যাগ দাবি করা হইতেছে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে পরিস্থিতি সামাল দিবার জন্য নমিত হইবার পরিবর্তে বিরোধীদের উপরে তীব্র ভাষায় আক্রমণের পথ বাছিয়া লইয়াছেন। বুধবার পার্লামেন্টে ভাষণদানকালে জনসন যাহারা তাহার মতো করিয়া ব্রেক্সিট ভাবনা ভাবিতেছেন না তাহাদিগকে উদ্দেশ্য করিয়া ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) কাছে ‘আত্মসমর্পণকারী’ এবং ‘বিশ্বাসভঙ্গকারীর’ মতো শব্দ ব্যবহার করেন। বিরোধীরা ‘জনগণ ও পার্লামেন্টকে’ মুখোমুখি দাঁড় করাইয়া দিয়াছে বলিয়াও দাবি করেন জনসন। সাহস থাকিলে নূতন নির্বাচনে বিরোধীদেরকে ‘জনগণের মুখোমুখি’ হইবারও চ্যালেঞ্জ জানান তিনি। কট্টর সমর্থক ব্যতীত প্রায় সকলেই জনসনের এহেন উদ্ধত ভাষা ব্যবহারের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রতি সজ্ঞান অবজ্ঞা প্রদর্শনের নজির খুঁজিয়া পাইতেছেন। এই ধরনের ভাষা ব্যবহারের মধ্য দিয়া তিনি পার্লামেন্টের উত্তপ্ত আবহকে আরো অবনতির দিকে ঠেলিয়া দিতেছেন বলিয়াও মনে করিতেছেন। লেবার পার্টি নেতা জেরেমি করবিনের মতে—জনসন হইতেছেন ‘একজন বিপজ্জনক প্রধানমন্ত্রী যিনি নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করেন’। তাহার মতে জনসন প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি নহেন।

ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যপন্থি এমপিদের মধ্যেও জনসনের কর্মকৌশল লইয়া হতাশা দেখা দিয়াছে। জনসন শপথ লইবার সময় ‘এক জাতির প্রধানমন্ত্রী’ হিসাবে কাজ করিবার অঙ্গীকার করিয়াছিলেন; কিন্তু তাহার কর্মকাণ্ডের মধ্যে তেমন কোনো নিশানা দেখা যাইতেছে না বলিয়াই মনে করিতেছেন এইসব এমপি। ব্রেক্সিট লইয়া ইইউ-এর সহিত শেষ পর্যন্ত কোনো রফায় পৌঁছাইতে না পারিলে জনসনকে সরাইয়া অন্য কাউকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসাইবার ভাবনাও দলের ভিতরে একটি অংশের মধ্যে শুরু হইয়া গিয়াছে বলিয়া বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রকাশ। শেষ পর্যন্ত তেমন কিছু ঘটিলে, কনজারভেটিভ পার্টি একটানা তিন ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসাইবে যাহারা নির্বাচিত নহেন।