এক-এক করে অতিবাহিত হয়ে গেছে আট দিন। অসংখ্য শিক্ষার্থী রয়েছেন নির্ঘুম। তিন জন সহকারী প্রক্টর করেছেন পদত্যাগ। এভাবেই চলছে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভিসি পতনের আন্দোলন। তাদের এক দফা এক দাবি নাসিরউদ্দিনমুক্ত বশেমুরবিপ্রবি।
গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জয় বাংলা চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র হাসান মাহমুদ। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য একটি বিশেষ মহল বিভিন্নভাবে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব অপচেষ্টা ও গণমাধ্যমে ভিসি অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের দেওয়া অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সমানে ও জয় বাংলা চত্বরে চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ ও মৌন মিছিল কর্মসূচি পালন করেন।
এদিকে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করে ইউজিসির গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত দল। এ তদন্ত দলের আহ্বায়ক ইউজিসি সদস্য ড. মুহাম্মদ আলমগীর। ইউজিসির তদন্ত দলটি বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন গোবরা, সোনাকুড় ও নবীনবাগে গত শনিবার ভিসিপন্থিদের হামলায় আহত শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বাইরের যারা বিশ্ববিদ্যালয়কে ভালোবাসেন তাদের দেওয়া বিভিন্ন তথ্য ও বক্তব্য সংগ্রহ করে। এছাড়া তদন্ত দলটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় ফাইল সংগ্রহ করে।
বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (বিজিই) বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মানস তালুকদার বলেন, ‘২১ সেপ্টেম্বরের হামলায় আমার হাত ভেঙে যায়। এছাড়া বাঁশ-লাঠি দিয়ে আমাকেসহ ২০ জনকে পেটানো হয়। হামলাকারীরা সবাই ভিসির গুন্ডাবাহিনীর ছিল। আমরা যাদেরকে চিনতে পেরেছি তাদের নাম ইউজিসির তদন্ত কমিটির কাছে বলেছি।’ তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ড. মুহাম্মদ আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি দেখেছি। ছাত্র-শিক্ষকসহ অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে। অনেকেই বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য যা করণীয় তা খুব শিগিগরই করা হবে।’
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শিক্ষার্থী বিরোধী ষড়যন্ত্র, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, হামলার পরে মামলা না করা প্রভৃতি কারণ দেখিয়ে বৃহস্পতিবার সহকারী প্রক্টর (ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটি) ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. তরিকুল ইসলাম পদত্যাগ করেছেন। এর আগে একই কারণ দেখিয়ে ২১ সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. হুমায়ুন কবির। অন্যদিকে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে বুধবার রাতে সহকারী প্রক্টর থেকে পদত্যাগ করেন কৃষি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হক শাহিন।
