অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে আজ ২৭ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০১৯’ পালিত হতে যাচ্ছে। এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘ভবিষ্যতের উন্নয়নে কাজের সুযোগ পর্যটনে।’ বিশ্ব পর্যটন সংস্থা কর্তৃক ১৯৮০ সাল থেকে প্রতি বছর ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হচ্ছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে, বিশ্ববাসীকে পর্যটনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পর্যটনের অবদান সম্পর্কে অবহিত করা।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠন টোয়াব-এর হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কালে সারা বছরই পর্যটকরা ছুটছেন দেশ থেকে বিদেশে। বছরে ৫০ থেকে ৬০ লাখ লোক দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে বেরিয়ে পরেন। বছর পাঁচেক আগেও যা ছিল ২৫ থেকে ৩০ লাখ। প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রতি বছর বেড়াতে যান পাঁচ থেকে ছয় লাখ বাংলাদেশি। এ ছাড়া ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কায় ভিসা জটিলতা না থাকায় সেখানেও ছুটে যান বিপুল সংখ্যক লোক। তবে দেশের অভ্যন্তরেও পর্যটনের রয়েছে বড়ো সম্ভাবনা। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম প্রকাশিত ‘দ্য ট্রাভেল অ্যান্ড টুরিজম কমপিটিটিভনেস রিপোর্ট ২০১৯’ এ দেখা যায় বাংলাদেশে এই সূচকে পাঁচ ধাপ এগিয়েছে। এতে ১৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২০তম। এর আগে ২০১৭ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৩৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২৫তম। সে হিসাবে বাংলাদেশ দুই বছরে এগিয়েছে পাঁচ ধাপ। পর্যটক আকর্ষণে একটি দেশ কতটা নিরাপদ, অবকাঠামো সুবিধা কেমন, বিমানবন্দর কতটা উন্নত, আবাসন ব্যবস্থার মান কেমন, বন্দর সুবিধা, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির অবস্থান, এরকম ১৪টি সূচকের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। মূলত ব্যবসায় ও পর্যটনে নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তির প্রস্তুতি, বন্দর অবকাঠামোর উন্নতিতে বাংলাদেশ কিছুটা এগিয়েছে। বাকি সুযোগ-সুবিধার আরো উন্নতি করতে হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পাঁচ ধাপ উন্নতি হলেও বাংলাদেশ এশিয়ার মধ্যে শুধু পাকিস্তানের ওপরে অবস্থান করছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ভারত। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমানবন্দরের মান বৃদ্ধি করা, আবাসন ব্যবস্থার উন্নতি করাসহ ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির বিষয়গুলো পর্যটক আকর্ষণ উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। তাহলে পর্যটন প্রতিযোগিতার সূচকে আরো উন্নতি হবে।
বিশ্ব পর্যটন দিবস পালন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। পর্যটন নিয়ে জনসাধারণের সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ বছর প্রথমবারের মতো সারাদেশের প্রতিটি জেলায় বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে র্যালি ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ব পর্যটন দিবসে আজ বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের আয়োজনে সকাল সাড়ে ৮টায় একটি সাইকেল র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। র্যালিটি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হয়ে ফার্মগেট-কাওরান বাজার-হাতিরঝিল-মগবাজার হয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এসে সমাপ্ত হবে। আজ সকাল ১০টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও পর্যটন করপোরেশনের আয়োজনে বিশ্ব পর্যটন দিবসের ওপরে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
