জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে গতকাল টানা চতুর্থ দিনের মতো কর্মসূচি পালন করেছে তারা। গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে তারা। মিছিল শেষে শহীদ মিনারের পাদদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ করে আন্দোলনকারীরা। সমাবেশে বক্তারা ১ অক্টোবরের মধ্যে উপাচার্যকে পদত্যাগের আহ্বান জানান। পদত্যাগ না করলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে পতন নিশ্চিত করার হুঁশিয়ারি দেন। এছাড়া প্রকল্পের দুর্নীতির বিচার নিশ্চিতেরও দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।

এসময় ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’র মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘আগামী রবিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদী গানের আয়োজন ও ‘অবাঞ্ছিত’ উপাচার্যকে কালো পতাকা প্রদর্শন।’

প্রতিবাদ সমাবেশে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক খবির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা বর্তমান উপাচার্যকে ১ অক্টোবরের মধ্যে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছি। এর মধ্যে পদত্যাগ না করলে ঘোষিত সময়ের পর আমরা তাকে যেখানে পাবো সেখানেই প্রতিরোধ করব। আমরা তাকে আর মাননীয় সম্বোধন করতে চাই না। মাননীয়ের মর্যাদা তিনি রাখেননি। দুর্নীতিবাজ উপাচার্যের শুধু পদত্যাগ নয় পাশাপাশি এর সঙ্গে আরো যারা জড়িত তাদের সকলকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম পাপ্পু বলেন, ‘উপাচার্য! আপনার সত্সাহস থাকলে অবাঞ্ছিত অবস্থায় চোরের মতো কেন্দ্র পরিদর্শনে যাইতেন না। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ওপর দায়বদ্ধতা থেকে আমরা কোনো কঠোর আন্দোলনের দিকে যাচ্ছি না। তবে এটাকে আমাদের কোনো দুর্বলতা ভাবার কারণ নেই। আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে পদত্যাগ না করলে আমাদের কঠোর রূপ দেখবেন।’

কর্মসূচিতে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আহসান, অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ, অধ্যাপক জাকির হোসেন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল জব্বার হাওলাদার, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু, অধ্যাপক তারেক রেজা, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নূরুল ইসলামসহ জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট, ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ জাবি শাখার নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।