রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের বালিশের মাত্রাতিরিক্ত মূল্য, ফরিদপুর মেডিক্যালের পর্দা কেলেঙ্কারি ও ছাত্রলীগের চাঁদা দাবির খবর মানুষকে হতবাক করেছিল। এর কিছুদিন পর যুবলীগ নেতাদের অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসায় অভিযানের মধ্যদিয়ে শুরু হয় চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান যা এখন সর্বত্রই আলোচিত হচ্ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স নীতিকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আর শেষমেশ সেনাপ্রধানও সমর্থন জানান। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত অভিযানে ভূমিকা রাখছে দুর্নীতি দমন কমিশনও।
সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যৌথসভায় সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ ও নির্দেশনা দিয়েছেন। সব রাজননৈতিক দল বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী-অঙ্গ সংগঠনের পদধারীদেরও নাম নেওয়া হয়েছে এ সভায়। আর গণপূর্তসহ বেশকিছু মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়ে নজরদারির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ অবশ্য ইত্তেফাককে বলেছেন, দুদকের কাছে নতুন কোনো বিষয় নেই। স্বাভাবিক যে কাজ বা অভিযান দুদক পরিচালনা করে থাকে, সেটি জারি আছে। এটি অব্যাহত থাকবে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সরকারি কর্মচারীদের আইনের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে গ্রেফতারও করা হতে পারে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুশাসনের স্বার্থে প্রয়োজনে শুদ্ধি অভিযানও চালানো হতে পারে। তবে কী প্রক্রিয়ায় কারা তা করবে সে বিষয় স্পষ্ট করেননি তিনি।
একটি বিশেষ দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ যাত্রাকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা। সেখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও ছিলেন। তার কাছাকাছি আসতে ওবায়দুল কাদের চলমান অভিযান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইশারায় গম্ভীর মেজাজে জানান দেন, চলবে। পরদিন ওবায়দুল কাদের সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অভিযান চলছে এবং চলবে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম অবশ্য বলছেন, এটি দলের বিরুদ্ধে কোনো অভিযান নয়, সুশাসনের পক্ষে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান।
আগামী পহেলা অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কথা। তিনি দেশে আসার পর চলমান অভিযান বিস্তৃত হবে নাকি ঘর থেকে শুরু করা শুদ্ধি অভিযান ঘরের বাইরে ছড়ানো হবে, সে বিষয়ে পরিষ্কার হওয়া যাবে। তবে সরকারের সব সংস্থা এখন তত্পর। তারা সরকারের ভেতরের এবং বাইরের নানা ব্যক্তি, গোষ্ঠী, দল ও ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করছে। ধারণা পাওয়া যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর সামনে এসব তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হবে এবং তার নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে ঘর থেকে শুরু হওয়া এই শুদ্ধি অভিযানের শেষ যে কোথায় তার কিনারা খুঁজছেন অনেকেই।
