ঢাবিতে ধর্মভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের ঘোষণা ডাকসুর

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:৩২

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব ধরনের ধর্মভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ডাকসুর নির্বাহী সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়াও সভার এজেন্ডায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট, গণপরিবহন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার সমস্যার নিরসন, সন্ধ্যাকালীন কোর্স ও ধর্মভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি ইত্যাদি বিষয় ছিল। তবে এ দাবির বিরোধিতা করছে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন (ইশা)। বিকাল ৪টায় সভা শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টায় শেষ হয়। সভায় জিএস গোলাম রাব্বানীর অনুপস্থিতিতে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন ডাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সাদ্দাম হোসেন। সভাপতিত্ব করেন ডাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

সভা শেষে ডাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অলিখিতভাবে ধর্মভিত্তিক মৌলবাদী ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। পরিবেশ পরিষদের সভায় সামরিক স্বৈরাচারের মদদপুষ্ট সংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজ এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল। এটি কোনো প্রস্তাব নয়, একটি সিদ্ধান্ত। আজ থেকে সব ধর্মভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ।’

সভা সূত্রে জানা গেছে, ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শয়ন ধর্মভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের প্রস্তাব উত্থাপন করলে সব সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি সমর্থন করেন। ধর্মভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ডাকসুর গঠনতন্ত্র এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেটে যেন একটি ধারা সংযোজন করা হয়, সে ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছেন সদস্যরা।

ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ‘যারা জালিয়াতি করে ভর্তি হয়ে ডাকসুতে নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করলে ছাত্রলীগ প্যানেলের প্রতিনিধিদের তোপের মুখে পড়ে আমি সভা থেকে বের হয়ে যাই।’

ধর্মভিত্তিক ছাত্ররাজনীতির বিষয়ে নুরুল হক নুর বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আগেও নিষিদ্ধ ছিল, এখনো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’

ডাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ ও চেতনার জায়গা, সুতরাং এখানে ধর্মভিত্তিক, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি চর্চার সুযোগ নেই। সেটি যেন কোনোক্রমেই অনুপ্রবেশ বা কর্মকাণ্ড পরিচালিত না হয়, সে বিষয়ে যেন সবাই যত্নশীল থাকে; সেজন্য ডাকসুর তরফ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কোরামে সেগুলো নিষিদ্ধ করে যেন আইনে পরিণত করা হয়, সেই দাবিও জানানো হয়েছে।’

সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে ইশার বিবৃতি : ডাকসু নেতৃবৃন্দের ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত একটি অপরিণামদর্শী ও এখতিয়ারবহির্ভূত অতি উত্সাহী সিদ্ধান্ত—উল্লেখ করে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন (ইশা) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল জানিয়েছেন, এ সিদ্ধান্তকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কখনোই মেনে নেবে না। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সংবাদ সম্মেলন করে এসব বলেন তারা।