ট্রাম্প-জেলেনস্কি ফোনকলের বিস্তারিত আড়াল করতে চেয়েছিল হোয়াইট হাউস!

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:৩৭

সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টারের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য ইউক্রেনকে অনুরোধ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ফোন করেছিলেন সে সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ফাঁস হয়েছে। এতে দেখা যায়, ওই ফোনকল প্রতিলিপির বিস্তারিত গোপন করতে চেয়েছিলেন হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা। ট্রাম্প গত ২৫ জুলাই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বাইডেনের  দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্তের জন্য বারবার অনুরোধ করেন। গোয়েন্দা সংস্থার একজন সদস্য আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার পর ওই বিতর্ক সামনে এসেছে। এতে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ফোনকলের বিস্তারিত জানা না গেলেও ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত না করলে ইউক্রেনে সামরিক সাহায্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন ট্রাম্প। জো বাইডেন হচ্ছেন ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রধান ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বি। তার বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারকে তদন্তের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে প্রতিনিধি পরিষদের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিশংসনের ঝুঁকিতে আছেন ট্রাম্প। তবে অভিশংসন প্রক্রিয়াকে ‘প্রতারণা’ উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনার কথা স্বীকার করেছেন ট্রাম্প। তবে তিনি দাবি করেছেন,  সামরিক সহায়তা বন্ধ করার হুমকি দিয়ে তিনি ইউরোপের কাছ থেকে সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছিলেন। ডেমোক্র্যাটদের দাবি, ট্রাম্প যা করেছেন তা সাংবিধানিক দায়িত্বের লংঘন। এর জন্য তাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ জাতীয় তথ্যের জন্য সাধারণত কম্পিউটার সিস্টেমে প্রতিলিপিটি সংরক্ষণ করা হয় না। তবে এটি ‘বিশেষ সংবেদনশীল ধরনের তথ্য’ শ্রেণীতে সংরক্ষণ করা হয়েছিলো।

এদিকে প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের তদন্তের অংশ হিসেবে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের গোয়েন্দা কমিটির শুনানিতে বক্তব্য রেখেছেন মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জোসেফ ম্যাগুয়্যার।  ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে অন্য দেশের হস্তক্ষেপের জন্য নিজের কার্যালয়ের ক্ষমতাকে ব্যবহার করেছেন প্রেসিডেন্ট। এটি আইনের অপব্যবহার এবং দেশের জন্য অশনি সংকেত।