নিউ ইয়র্কে সিএফআর সংলাপ অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা

রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য বড়ো চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:৫১

রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য বড়ো চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা এই সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ ও তাত্ক্ষণিক সমাধান চাই। মিয়ানমারই এই সমস্যার সৃষ্টি করেছে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারেই রয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং স্বেচ্ছায় তাদের পৈতৃক নিবাসে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে বিশ্বসম্প্রদায়কে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণণের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্থানীয় সময় বুধবার বিকালে নিউ ইয়র্কের থিংকট্যাংক প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অব ফরেন রিলেশনস (সিএফআর) আয়োজিত ‘এ কনভারসেশন উইথ অনারেবল প্রাইম মিনিস্টার শেখ হাসিনা’ শীর্ষক এক ইন্টারঅ্যাকটিভ সংলাপ অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং মানবতার ক্ষেত্রে সন্ত্রাস ও উগ্র চরমপন্থাকে দুটি সামাজিক ব্যাধি আখ্যায়িত করে এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য চার দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘আমি সন্ত্রাস এবং উগ্র চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণের প্রস্তাব করছি।

প্রস্তাবগুলো উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের জোগান অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত তাদের অর্থের জোগান বন্ধ করতে হবে। তৃতীয়ত; সামাজিক বৈষম্য দূর করতে হবে এবং চতুর্থত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমস্যা শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের জন্য সমান সুবিধাজনক পরিস্থিতি নিশ্চিতের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।’

মিয়ানমার সরকার একটি পরিকল্পিত নৃশংসতার মাধ্যমে উত্তর রাখাইন রাজ্য থেকে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সমপ্রদায়কে নিধন শুরু করে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘রোহিঙ্গারা নৃশংসতা ও সন্ত্রাস থেকে পালিয়েছিল। আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে সীমান্ত খুলে দিই।’ তিনি বলেন, সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য সাধ্যমতো সব ধরনের মানবিক সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়ে বাংলাদেশকে সর্বপ্রকার সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী সবাইকে বাংলাদেশের কক্সবাজারস্থ রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এ সমস্ত শিবির পরিদর্শনে এসে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় সন্ত্রাসীদের দ্বারা রোহিঙ্গাদের নিধনযজ্ঞের বিভিন্ন নৃশংস ঘটনা শুনলে আপনারা কেঁপে হয়ে উঠবেন।’

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশিদের নিজস্ব অভিজ্ঞতার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে আশ্রয় প্রদানের ক্ষেত্রে যে বিষয় কাজ করেছে তা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি জনগণ তখন প্রতিবেশী দেশ ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণে বাধ্য হয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট আমার পিতা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর পরিবারের ১৮ জন সদস্যসহ নৃশংসভাবে হত্যার পর আমি নিজেও শরণার্থী হয়ে পড়েছিলাম। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কেবল আমি এবং আমার ছোটো বোন শেখ রেহানা সে সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাই। প্রায় ছয়টি বছর তত্কালীন স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান আমাদেরকে দেশে ফিরতে দেয়নি। যে কারণে, ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণে বাধ্য হই।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ শাহাবউদ্দিন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারী মো. আবুল কালাম আজাদ, সিএফআর প্রেসিডেন্ট রিচার্ড এন হাস এবং সিএফআরের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।