আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন শুরু

শাটলারদের আক্ষেপ প্রস্তুতি কম

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:১৫

স্পোর্টস রিপোর্টার

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম সংলগ্ন উডেন ফ্লোর জিমনেসিয়ামে খেলোয়াড়দের অনুশীলন চলছে। অন্যদিকে গ্যালারি, ফ্লোরের সংস্কার কাজ এবং সাজসজ্জার কাজও চলছে। আট বছর আগের ম্যাট পরিবর্তন করে নতুন ম্যাট স্থাপন করা হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও থেমে নেই। কারণ আজ থেকে ইউনেক্স সাইনরাইজ বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সিরিজ ব্যাডমিন্টন শুরু হবে উডেন ফ্লোরে। খেলা আয়োজনে বাংলাদেশের সুনাম বরাবর। তবে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স সেই মানে পৌঁছাতে পারেনি। এবারও তাই হতে যাচ্ছে। আয়োজন করতে গিয়ে সংগঠকরা হয়ত বাহবা পাবেন। কিন্তু খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তুোষ্টি থাকে এবং থাকছে। কারণ  আন্তর্জাতিক এই টুর্নামেন্টটি বাংলার শাটলারদের সেভাবে উপকারও আসেনি। আসেনি পরিকল্পনার অভাবে। এখানে যারা খেলতে আসছেন তারা অনেক দেশে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা ঘরোয়া টুর্নামেন্টই সেভাবে খেলার সুযোগ পান না। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আয়োজনও নেই। যারা বিদেশে খেলতে যান তাদেরকে নিজেদের খেলতে যেতে হয়। মালয়েশিয়ান কোচ আরভিন ভার্মা এসেছেন ২৭ দিন আগে। এতো স্বল্প সময়ে অনুশীলন করে কুলিয়ে উঠা যায় না। খেলোয়াড়রা প্রস্তুতি নিয়ে খুব ভালো কিছু বলেননি। শাটলাররা বললেন, ‘সারা বছর খেলা হয়নি। এখন আন্তর্জাতিক খেলা। এই বিদেশি কোচ আরো আগে আনলে ভালো হতো। তাতে প্রস্তুতিটাও ভালো।’ এতো অল্প সময়ে ফিটনেসই হবে না। শাটলার সালমান সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘যে কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেললে র্যাংকিং বাড়ার সুযোগ থাকে।’ খেলোয়াড়দের অভিযোগের কথা মেনে নিয়েছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বাহার। ব্যর্থতা মেনে নিয়ে আমির হোসেন বাহার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, কোচ আরো আগে আনতে পারতাম। আমি পারিনি। তবে আগামীতে অনেক সময় নিয়ে আমি কাজ করব। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই প্রথম টুর্নামেন্ট।’ এই টুর্নামেন্টে ২০১১ সালে দ্বৈতে রেহানা পারভিন ও নিগার সুলতানা জুটি ফাইনাল খেলে। সেবার শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে যায়। অবশ্য সেই আসরেও শুধু শ্রীলঙ্কার দলই এসেছিল। ২০১৪ সালে দ্বৈতে ওয়াহিদুল ও মিনহাজ জুটি সেমিফাইনাল খেলে।

টুর্নামেন্টের জন্য ইউনেক্স দিচ্ছে ২২ হাজার ডলার এবং ব্যাডমিন্টন এশিয়া দিচ্ছে। এবার নিয়ে সাতবার এই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হচ্ছে। এবার বাইরের ১৩টি দেশ আসছে, সঙ্গে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, অস্ট্রেলিয়া, মরিশাস, বাহরাইন, থাইল্যান্ড, জার্মানি, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ১৫১ জন শাটলারের মধ্যে ৯৭ জন নারী। ১০ জনের মধ্যে রয়েছে এমন র্যাংকিংয়ের খেলোয়াড় রয়েছেন বিদেশি দলে। একক দ্বৈত এবং মিশ্র দ্বৈত ইভেন্টে খেলা হবে। প্রাইজমানী ২৫ হাজার ডলার। এবার একক চ্যাম্পিয়ন ২০১৬ সালে এই টুর্নামেন্টের পর গত বছর হয়নি টুর্নামেন্ট। এ বছরও প্রায় শেষ। তারপরও আশাবাদী বাংলাদেশের সংগঠক এবং খেলোয়াড়রা।