প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে নিয়ে বিদ্রুপাত্মক একটি কার্টুন ছেপে বিতর্কের মুখে পড়া পাকিস্তানি দৈনিক পত্রিকা দ্য নেশন ক্ষমা চেয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে কাশ্মীরের সংকট সমাধানে ইমরানের প্রাণপণ চেষ্টাকে ব্যঙ্গ করেই পাকিস্তানের ইংরেজি ভাষার দৈনিক দ্য নেশন গত বুধবার ঐ ব্যঙ্গচিত্র ছাপে।
ব্যঙ্গচিত্রে ইমরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও দেখা যায়। ব্যঙ্গচিত্রটি প্রকাশের পরদিন বৃহস্পতিবার নেশনের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়। বলা হয়, ‘ঐ ব্যঙ্গচিত্র আমাদের মানের ছিল না এবং সেটির মাধ্যমে আমাদের সম্পাদকীয় নীতিও প্রতিফলিত হয়নি।’
‘এটা প্রকাশ করা একেবারেই উচিত হয়নি। আমরা দেশের পক্ষের পত্রিকা এবং এর জন্য সব সময়ই গর্বিত থাকি। ঐ ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে যে ব্যক্তব্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, সেটা যথাযথ নয়। বিশেষ করে এমন একটি সময়ে, যখন নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলছে। এ কাজের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’
ছবিতে ট্রাম্প ও মোদিকে একটি টানা গাড়িতে পাশাপাশি বসে থাকতে দেখা যায়, যেটি ইমরান টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্পের হাতে একটি বড়ো ছিপ, যেটির মাথায় একটি গাজর ঝোলানো। ট্রাম্প গাজরটি ইমরানের মুখের সামনে ঝুলিয়ে রেখেছেন আর ইমরান সেটির লোভে টানাগাড়ি নিয়ে দৌড়ে চলেছেন এবং কাশ্মীর সংকটের সামাধান হবে বলে কল্পনা করছেন।
গত ৫ অগাস্ট মোদি সরকার ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রোধ করে রাজ্যটিকে কেন্দ্রশাসিত দুটি আলাদা অঞ্চলে ভাগ করার ঘোষণা দেয়। ঘোষণার এক দিন আগে পুরো কাশ্মীর নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়। বিশেষ মর্যাদা রোধের পর বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়তে পারে আশঙ্কায় কাশ্মীরের টেলিফোন লাইন, মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়ে কারফিউ জারি করা হয়।
স্থানীয় প্রায় সব রাজনীতিবিদ এখনো হয় গৃহবন্দি, না হয় কারাবন্দি আছেন। যদিও ভারতের দাবি, প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে কাশ্মীরের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে এবং যোগাযোগব্যবস্থাও ঠিকঠাক হয়েছে। কিন্তু সাংবাদিক ও সমাজকর্মীদের দাবি, রাজ্যের বেশিরভাগ এলাকা, বিশেষ করে একসময়ের রাজধানী শ্রীনগরে এখনো জনগণের চলাচলের ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ আছে।
কাশ্মীর সংকট নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের কাছে কাশ্মীর সংকট সমাধানে সাহায্য কামনা করেছেন।
