জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারে উদ্যোগ নেই

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:০৪

সৈয়দপুরে মুর্তজা ইনস্টিটিউট

মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

সৈয়দপুরের ঐতিহ্যবাহী মুর্তজা ইনস্টিটিউট আজও কালের সাক্ষী হয়ে আছে। লাল ইটের গাঁথুনির এই ভবনটি ব্রিটিশ উপনিবেশের সময় সৈয়দপুরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৮৭০ সালে স্থাপন করা হয়েছিল সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা। ঐ সময় ইংরেজদের চিত্তবিনোদনের জন্য সুরম্য মিলনায়তন—‘দি ইউরোপিয়ান ক্লাব’ গঠন করা হয়। পরে এর নামকরণ হয় মুর্তজা ইনস্টিটিউট।

জানা গেছে, ঐতিহ্যবাহী এই মুর্তজা ইনস্টিটিউট সংস্কারের অভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এর পাঠাগারের মূল্যবান বইগুলো। সংগ্রহে থাকা মূল্যবান বাদ্যযন্ত্র ও চিত্রকলাও ইতিমধ্যে খোয়া গেছে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৩০ সালের পর আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার ছিলেন বিআর সিং। তার নামানুসারে রেলওয়ে ময়দানের পশ্চিম পার্শ্বে একটি ভবনের নামকরণ করা হয় বিআর সিং ইনস্টিটিউট যা বর্তমানে সৈয়দপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। পরবর্তী সময়ে ইউরোপিয়ান ক্লাবের নাম পরিবর্তন করে বিআরসি ক্লাব রাখা হয়। এ নামই পরে কালপেপার ইনস্টিটিউট এবং আরো পরে মুর্তজা ইনস্টিটিউট হিসেবে রূপান্তরিত হয়।

বর্তমানে এই ইনস্টিটিউটে নিজস্ব প্রয়োজন ছাড়াও শহরের অন্যান্য নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তাদের অনুষ্ঠান মঞ্চায়ন করছে। মুর্তজা ইনস্টিটিউটের মূল্যবান সম্পদ হচ্ছে এর গ্রন্থাগার। এই গ্রন্থাগারে আছে প্রাচীনকালের দুষ্প্রাপ্য কিছু গ্রন্থ। গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার।

পাঠাগারের রেজিস্ট্রার ঘেটে পাওয়া যায়, উপন্যাস রয়েছে ১ হাজার ২৩৯ টি, ছোটো গল্প ৯৫৩টি, ইসলাম ও হিন্দু ধর্ম বিষয়ক বই ৫৮৬টি, ধর্মীয় ও বিবিধ বই ১৮১টি, ভ্রমণ কাহিনি ২৯০টি, ইংরেজি ১ হাজার ১২১টি, উর্দু ৩৯৪টি, নাটক ৮৬৯টি, জীবনী প্রবন্ধ ১০৩টি, কবিতার বই ১৬২টি।

মুর্তজা ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক ও পাঠাগারের তত্ত্বাবধায়ক তহিদুল ইসলাম জানান, আগের মতো পাঠক নেই। গত কয়েক বছরে একজনও বই নিতে আসেননি। আমরা পাঠাগারের বইগুলোকে রক্ষা করার যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে বইগুলো অনেক পুরোনো হওয়ায় পাতাগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে ঐতিহ্য রক্ষায় মুর্তজা ইনস্টিটিউটটি মেরামত ও সংস্কার করে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার জন্য সচেতনমহল দাবি জানিয়েছেন।