কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত কৃষক

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:০৪

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) সংবাদদাতা

আগাম জাতের ধান ঘরে তুলে এখন আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা। আগাম জাতের আলু চাষ করে লাভবান হওয়ায় বরাবরের মতো এবারও আলু চাষে ঝাঁপিয়ে পড়েছে কৃষক।

কিছুদিন আগে আগাম জাতের চায়না ধান ব্রি-ধান ৭১, ব্রি-ধান ৬৩ ঘরে তুলেছেন কৃষক। সেই জমিতে এখন আগাম আলুর বীজ বুনছে।

বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি গ্রামের আলু চাষি শামীম হোসেন বলেন, বাজারে যার আলু যত আগে উঠবে, তার লাভ তত বেশি। তাই আগেভাগেই আলু আবাদ করছি। এবার আবহাওয়া অনুকূল। বীজের দাম কম। প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহও স্বাভাবিক। তিনি এবার ১৪ বিঘা জমিতে আগাম জাতের আলু রোপণ করছেন।

তিনি জানান, আগাম আবাদে আগাম বাজার ধরতে পারলে আলুর কেজি বিক্রি হবে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা করে। এতে বিঘাপ্রতি আলু বিক্রি করে খরচ বাদে লাভ পাওয়া যাবে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা।

নিতাই ইউনিয়নের গাংবের গ্রামের আলু চাষি আবুল কালাম আজাদ জানান, আগাম জাতের আলু চাষ করে ভালো দাম পাওয়া যায়। তাছাড়া ৫০ থেকে ৫৫ দিনের মধ্যে এ আলু খেত থেকে তোলা যায় বলে কৃষকদের আলু চাষে আগ্রহ বেশি।

পানিয়ালপুকুর এলাকার আলু চাষি মোছারুল ইসলাম জানান, গতবার পাঁচ বিঘা জমিতে আলু আবাদ করলেও এবার দ্বিগুণ করেছেন। গতবার ভালো দাম পেয়েছেন।

জিয়ারুল নামে এক কৃষি শ্রমিক জানান, আগে এ সময়টায় কোনো কাজ থাকত না। এখন আগাম আলু চাষ হওয়ায় কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

আরেক কৃষি শ্রমিক বেলাল জানান, আগে বেকার থাকতে হতো আর এখন আলু খেতে কাজ করে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা মজুরি পাওয়া যাচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, উপজেলায় এবার ৩ হাজার ৩৩৪ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের চায়না ও উচ্চফলনশীল ধান আবাদ হয়েছে। জমির আগাম জাতের ধান কাটা হয়েছে। এবার কৃষকরা প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলু আবাদে নেমে পড়েছে। ৫০ থেকে ৫৫ দিনে এই আলু বাজারে পাওয়া যাবে।