স্পোর্টস ডেস্ক
লিওনেল মেসিকে কারচুপি করে বিশ্বসেরা বানানো হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে ফিফা।
আর্জেন্টিনা ও বার্সেলোনা অধিনায়ক লিভারপুল ডিফেন্ডার ভার্জিল ফন ডাইক ও জুভেন্তাস তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে হারিয়ে গত সপ্তাহে পুরস্কারটি জেতেন। বলা হচ্ছে—ফিফা এমনভাবে ভোট গণনা করেছে যাতে পুরস্কারটি জিততে পারেন মেসি।
নিকারাগুয়া অধিনায়ক জুয়ান ব্যারেরা এই বিতর্কের সূত্রপাত করেন। মেসিকে ভোট দেননি জানিয়ে ভোটাভুটির পুরো প্রক্রিয়াকে তদন্ত করে দেখতে বলেন তিনি। ব্যারেরা বলেন, ‘আমি দ্য বেস্ট ২০১৯ এ ভোট দেইনি। কাজেই আমার সম্পর্কে যে কোনো তথ্যই মিথ্যা।’
ফিফার বর্ষসেরা নির্বাচনে জাতীয় দলের অধিনায়ক, কোচ ও প্রতিটি দেশের একজন করে সাংবাদিক ভোটাভুটিতে অংশ নেন। এদের সম্মিলিত ভোটের ৪৬ শতাংশ পেয়ে এবার মেসি হন সেরা।
ফিফা ব্যারেরার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি বিবৃতি দেয়। এতে বলা হয়, ‘আমরা নিকারাগুয়ান এফএ’র দেওয়া ভোটের কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেছি। সবগুলো কাগজই সই করা এবং তাতে নিকারাগুয়ান এফএর দাপ্তরিক সত্যায়ন আছে। আমরা নিকারাগুয়ান ফুটবল ফেডারেশনকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে বলেছি।’
শুধু নিকারাগুয়ার অধিনায়কই নন অভিযোগ উঠেছে মিশর ও সুদানের দিক থেকেও। বলা হচ্ছে মিশরের কোচ শাকি গারিব ও অধিনায়ক আহমেদ এলমোহাম্মাদির ভোট হিসাব করা হয়নি। দুজনেই লিভারপুল তারকা মোহামেদ সালাহকে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু পুরস্কার প্রদানের পর ফিফা ভোটাভুটির যে হিসাব প্রকাশ করে তাতে দেখা যায় মিশরের কোচ ও অধিনায়কের পছন্দ গোনায় নেওয়া হয়নি।
মিশর দাবি করে তারা সময়সীমা শেষ হওয়ার চার দিন আগে ১৫ আগস্ট পাঠিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু ফিফা গত বৃহস্পতিবার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জানায়, ভোটের ফরমে সই ছিল বড়ো হরফে। এছাড়াও মিশরের ভোটের ফরম ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের সই ছিল না যা সংস্থাটির মতে বাধ্যতামূলক।
এদিকে সুদানের কোচ ড্রাভকো লোগারুসিচও বলছে তার ভোট ফিফার হিসেবে প্রতিফলিত হয়নি। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভোটের ফরম তুলে দিয়ে সালাহ, সাদিও মানে ও কিলিয়ান এমবাপেকে ভোট দিয়েছিলেন বলে জানান। কিন্তু ফিফার প্রকাশিত তথ্যে দেখানো হয়েছে তার ভোট গেছে মেসি, ফন ডাইক ও মানের ঘরে।
কিন্তু ফিফা বলছে সুদানের পক্ষে আসা ভোটে সেদেশের ফেডারেশনের দাপ্তরিক সত্যায়ন ছিল। তারপরও ফুটবলের বিশ্বসংস্থা বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে বলেছে সুদানকে।
