‘সৈয়দ হক ছিলেন সাহিত্যের পরিপূর্ণ রূপকার’

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:২৭

বেঙ্গল পাবলিকেশনেস দুটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

ইত্তেফাক রিপোর্ট

সৃজনশীল মানুষ হিসেবে সৈয়দ শামসুল হকের যে অবয়ব, তা এত বিশাল ও বৈচিত্র্যময় যে ‘সব্যসাচী লেখক’-এ তা পুরোপুরি প্রকাশিত হয় না। বলা যায়, তিনিই বাংলাদেশের সাহিত্যের পরিপূর্ণ রূপকার। অনুবাদক হিসেবেও ছিলেন সফল। ’৪৭ এ দেশভাগের পর ভারতের স্বাধীনতা, পাকিস্তান সৃষ্টি ও বাংলাদেশের আবির্ভাব ইতিহাসের এই প্রতিটি বাঁকবদলের মানুষের জীবনে যে অভিঘাত তা তিনি তার লেখায় তুলে এনেছিলেন। আর সারাজীবনের লেখায় তিনি পরিপূর্ণ মানুষের সন্ধান করেছেন। তিনি মানুষের মানুষ হয়ে উঠবার কথা বলেছেন, কবিতায়, গল্পে, গদ্যে। মৃত্যুর শেষ দিন পর্যন্ত চলমান ছিল তার এই অন্বেষণ’।

গতকাল শুক্রবার ছিল সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষ্যে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত বই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। প্রকাশনা সংস্থা বেঙ্গল পাবলিকেশন্স প্রকাশ করেছে সৈয়দ শামসুল হকের অপ্রকাশিত দীর্ঘকবিতা নুন-পূর্ণিমা এবং সৈয়দ হকের অনুবাদগ্রন্থ আফ্রিকান ও অন্যান্য কবিতা। গতকাল লালমাটিয়ার বেঙ্গল বই প্রাঙ্গণে গ্রন্থ দুইটার প্রকাশনা উত্সবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি টোকন ঠাকুর এবং কবি পিয়াস মজিদ। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কালি ও কলম সম্পাদক কবি আবুল হাসনাত। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী।

এছাড়া, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমি সৈয়দ শামসুল হক তৃতীয় প্রয়াণবর্ষ স্মরণার্ঘ্য শিরোনামে সন্ধ্যা সাতটায় জাতীয় নাট্যশালায় মঞ্চায়ন করে সৈয়দ শামসুল হক রূপান্তরিত উইলিয়াম শেকসিপয়রের বিশ্বখ্যাত নাটক হ্যামলেট। সৈয়দ শামসুল হকের জন্মভূমি কুড়িগ্রামেও তৃতীয় প্রয়াণবার্ষিকী স্মরণে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল তার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শোভাযাত্রা, দোয়া মাহফিল, শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।