রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে যৌথ জোট গঠনের তাগিদ

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:২৯

ইত্তেফাক রিপোর্ট

শুধু আন্তর্জাতিক চাপ নয়, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বহুমাত্রিক চাপ দরকার। যেখানে দেশীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সব গোষ্ঠীরই ভূমিকা রাখতে হবে। সব দিক থেকে যত চাপ আসবে মিয়ানমার তখন বাধ্য হবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দিয়ে ফিরিয়ে নিতে। একটা দেশ যখন, গণহত্যা ঘটায় তখন সেটা আর দ্বিপাক্ষিক থাকে না, তখন সেটা আন্তর্জাতিক হয়ে যায়। মিয়ানমারে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিলেও গণহত্যারও বিচার হওয়া দরকার। গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) ‘রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন’ নিয়ে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় এসব কথাই উঠে এসেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি বলেন, মিয়ানমারের এ গণহত্যার বিচার না হলে এমন গণহত্যা বারবার ঘটতেই থাকবে। মিয়ানমারের জনগণই হয়তো একদিন এর বিচার করবে। তবে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে চীনের অনেক ভূমিকা রয়েছে। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদ। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে এই প্রতিযোগিতায় লালমাটিয়া মহিলা কলেজকে পরাজিত করে ইডেন মহিলা কলেজ বিজয়ী হয়।

মুন্সী ফয়েজ আহমদ বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মিয়ানমারের প্রতি রয়েছে আস্থা ও বিশ্বাসের সংকট। এই জনগোষ্ঠী বারবার মিয়ানমার কর্তৃক নির্যাতিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিয়ে যৌথ জোট গঠন করে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। রোহিঙ্গারা যাতে স্বেচ্ছায় তাদের দেশে যেতে পারে মিয়ানমারকে এই ধরনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সম্পূর্ণ মানবিক কারণে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে চোখে এখন শর্ষে ফুল দেখছে। রোহিঙ্গারা এখন আর দেশে ফিরে যেতে চায় না। মনে হচ্ছে এই সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিকভাবে আমরা নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছি। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক কোনো শক্তিধর রাষ্ট্রই তাদের জোরালো ভূমিকা রাখছে না। রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশ ব্যাপক ক্ষতির মুখোমুখি হলেও লাভবান হয়েছে অন্যরা। তবে মনে রাখতে হবে, এই সমস্যার সমাধান কূটনৈতিকভাবেই করতে হবে।